দক্ষিণ বাংলা

টানা দুদিন ধরে মৃত খনি কর্মীর দেহ নিয়ে বিক্ষোভ পরিবারের

By Eaibanglai - May 06, 2025
— Advertisement —
Advertisement
টানা দুদিন ধরে মৃত খনি কর্মীর দেহ নিয়ে বিক্ষোভ পরিবারের

সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- টানা দুদিন ধরে চাকরির দাবিতে মৃত খনি কর্মীর দেহ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পরিবার। ঘটনা স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের রামনগর কোলিয়ারির। সোমবার থেকে কোলিয়ারির এজেন্ট অফিসে মৃতদেহ রেখে চলছে এই বিক্ষোভ। মৃত খনি কর্মীর নাম কেদার পান (৪৮)। তিনি কলিয়ারিতে হলপ্যাক অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন।

প্রসঙ্গত গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি কর্মরত অবস্থায় এক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন কেদার পান। দুর্ঘটনার পর তাঁকে কোলিয়ারির ডিসপেনসারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বার্নপুরের সেল আইএসপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সেখান থেকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুমাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। যদিও সেখানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার দুর্ঘটনার প্রায় তিন মাস পর চিকিৎসা চলাকালীন কলকাতার হাসাপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর সোমবার কেদার পানের দেহ এজেন্ট অফিসে রেখে কোলিয়ারির জিএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবই কেদার পানের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাঁদের দাবি,কেদার পানের মেয়েকে চাকরি দিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হোক।

অন্যদিকে এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রামনগর কোলিয়ারিতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। শ্রমিকদের জীবন রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, আর দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও উদাসীন থাকে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, শ্রমিকদের জীবনকে মূল্যহীন ভাবার এই প্রবণতা কবে শেষ হবে? স্থানীয়দের মতে কেদার পানের মৃত্যু শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং শ্রমিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের অবহেলার এক নিষ্ঠুর চিত্র।

এদিকে কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন সেল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement