সংবাদদাতা,জামুড়িয়াঃ- ফের একবার জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এবার পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ার পড়াশিয়া কোলিয়ারির এক বিয়েবাড়িতে ঠান্ডা পানীয়ের প্যাকেটের ভেতর থেকে জীবন্ত পোকা পাওয়ার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। উৎসবের আমেজ নিমেষেই পরিণত হয়েছে চরম উদ্বেগে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি বিয়েবাড়ির আপ্যায়নকে কেন্দ্র করে। অতিথিদের জন্য আনা প্রায় ১০০টি ফ্রুটি প্যাকেটের মধ্যে ১০টি প্যাকেট অবশিষ্ট ছিল। পরিবারের দাবি, সেই প্যাকেটগুলোর মধ্যে একটি একটি শিশুকে দেওয়া হয়। কিন্তু স্ট্র ঢোকাতে গিয়েই বাধে বিপত্তি। প্যাকেটের ভেতরে স্ট্র প্রবেশ করছিল না। সন্দেহবশত বাড়ির সদস্যরা যখন প্যাকেটটি কেটে খোলেন, তখন তাঁদের সামনে আসে বীভৎস দৃশ্য। প্যাকেটের ভেতরে কালো রঙের মোটা আস্তরণের পাশাপাশি অসংখ্য পোকা কিলবিল করতে দেখা যায়। সিল করা প্যাকেট কীভাবে এমন অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠল? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠান্ডা পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গুণগত মান বজায় না রাখার অভিযোগ নতুন নয়; মাঝেমধ্যেই এমন ঘটনায় তাদের দায়বদ্ধতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। প্যাকেটজাত পানীয়ের ক্ষেত্রে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের নিয়মাবলী কি তবে কেবল কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ? নাকি মুনাফার লোভে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি আপস করা হচ্ছে? এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়, বরং বৃহত্তর খাদ্য বিপণন ব্যবস্থার এক ভয়াবহ গাফিলতির প্রতিচ্ছবি। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকিকে তোয়াক্কা না করে কীভাবে এমন বিষাক্ত পণ্য বাজারে পৌঁছাল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর এই ভয়াবহ অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি তুলেছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। উৎসবের রাতে পানীয়ের প্যাকেটে এই ‘উপহার’ যেন আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার নগ্ন ছবিই তুলে ধরল।

















