মনোজ সিংহ দুর্গাপুরঃ- শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের জেরে রাজধানী দিল্লি গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তাল। দফায় দফায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের চলে সংঘর্ষ। এদিকে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে দেশের প্রায় সব কটি বিরোধী রাজনৈতিক দল কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। পার্লামেন্টের ভেতরেও শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদেরকে প্রবল চাপের মধ্যে পড়তে হয়। যদিও শাসক দলের একাধিক নেতা এই বিক্ষোভকে ভারত বিরোধী ডিপ স্টেটের কারসাজি বলে দাবি করছেন।
এদিকে দেশজুড়ে চলা প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে বা যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে রয়েছে তাদেরকে কোনভাবেই ছাড়া হবে না ভারতীয় আইন মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যদিও ককরোজ জনতা পার্টি মূলত তিনটি দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে যেসব পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান। এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাজকর্মী তথা বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুকসহ আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি।
এদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে কড়া মনোভাবের পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরশোলার প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাতেও পৌঁছেছে আন্দোলনের ঢেউ। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। সেখান থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি সাংবাদিকেরাও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য প্রশাসন। ধর্মতলার মিছিল থেকে মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাতটি মামলা করা হয়েছে । তার সঙ্গে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার।
এদিকে কলকাতা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন শহর ও শহরতলীতে আরশোলা গ্যাংয়ের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে আরশোলা গ্যাংয়ের সমর্থনে আগামী ২৬ শে জুলাই রবিবার "এডুকেশন রিফর্ম ইন দুর্গাপুর" নামক একটি র্যালির আয়োজন করা হয়েছে । বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চলছে তার জোরকদমে প্রচার। ওইসব সামাজিক মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে রবিবার বিকেল পাঁচটায় সিটি সেন্টারের জংশন মল থেকে র্যালি শুরু হবে এবং তা দুর্গাপুর নগর নিগম, দুর্গাপুর মহকুমা আদালত, স্মার্ট বাজার হয়ে চতুরঙ্গ ময়দানে গিয়ে শেষ হবে।
কিন্তু কে বা কারা এই র্যালির উদ্যোক্তা তা নিয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন ইউটিউবার ও ব্লগারকে ইতিমধ্যেই এই রেলির প্রচার প্রসারে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে দুর্গাপুর পুলিশ প্রশাসন ও নগর প্রশাসনের কাছ থেকে এই ধরনের কোন র্যালির বৈধ অনুমোদন আছে কিনা তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে এই র্যালি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
তবে সাম্প্রতিককালে যেভাবে আরশোলা গ্যাঙের উগ্র প্রদর্শন দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা দেখে এই র্যালি কতটা শান্তিপূর্ণ হবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শহরবাসী।
এদিকে রাজ্যের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন,"২৬ শে জুলাই গোটা দেশের জন্য এক গৌরবের দিন। সারাদেশে এই দিন কারগিল দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। সম্ভবতই তাই ওই দিনই দেশ বিরোধী, জেহাদি, সমাজ বিরোধী ও কিছু রেজিস্টার্ড ক্রিমিনালরা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আড়ালে দুর্গাপুর শিল্প শহরে এই র্যালির আয়োজন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কখনোই লাঠিতে প্রেক লাগিয়ে বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লাঞ্ছিত করে কোন আন্দোলন করতে পারে না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একশ্রেণীর রাজনৈতিক দলের কর্মী, বেশ কিছু সমাজ বিরোধী, ও জিহাদি গোষ্ঠীর মানুষেরা এ ধরনের র্যালির আয়োজন করছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।
অন্যদিকে দুর্গাপুরের বজরং দল নামক এক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "যদি কালকে ছাত্র-ছাত্রী আড়ালে যদি কোন সমাজ বিরোধী বা জেহাদি গোষ্ঠী ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করে তাহলে সেখানেই তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।"
শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের শিক্ষিত রুচিশীল মানুষেরা কখনোই এই ধরনের র্যালিতে অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা।