উত্তর বাংলা এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

শিক্ষকদের জনগণনা ডিউটি নিয়ে প্রত্যাহার করা হলো আগের বিতর্কিত নির্দেশিকা

By Eaibanglai - August 19, 2026
— Advertisement —
Advertisement
শিক্ষকদের জনগণনা ডিউটি নিয়ে প্রত্যাহার করা হলো আগের বিতর্কিত নির্দেশিকা

সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- রাজ্যে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে অবশেষে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। শিক্ষকদের  আপত্তি এবং কলকাতা হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর, গত ৩ আগস্ট জারি করা পূর্ববর্তী বিতর্কিত নির্দেশিকাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের এখন থেকে পঠনপাঠনের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সরাসরি ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

গত ৩ আগস্ট স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার স্বার্থ বজায় রাখতে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সময়ের পর অথবা ছুটির দিনগুলোতে (শনিবার ও রবিবার) গিয়ে সেন্সাসের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশের পরই শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি ছিল, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব সামলানোর পর ছুটির দিনেও এই অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া কার্যত অসম্ভব। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যেখানে সেন্সাস অথরিটি সাধারণ কার্যদিবসের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কাজের সময় নির্ধারণ করেছে, সেখানে রাজ্য কীভাবে শিক্ষকদের ছুটির দিনে কাজ করার নির্দেশ দেয়, তা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে। শিক্ষকদের উপর এই অতিরিক্ত বোঝা চাপানোকে 'স্বেচ্ছাচারী' বলে উল্লেখ করে আদালত শিক্ষা ও শিক্ষক উভয়ের স্বার্থেই একটি ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

আদালতের কড়া মনোভাব এবং আইনি জটিলতা এড়াতে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে তাদের আগের নির্দেশিকা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়। সেই মতো  বুধবার, ১৯ আগস্ট নতুন মেমো জারি করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। স্কুল শিক্ষা দফতরের জয়েন্ট ডিরেক্টরের জারি করা মেমোতে জানানো হয়েছে, ৩ আগস্ট ২০২৬-এ জারি হওয়া মেমো নম্বর 708(46)-Sc/P-কে প্রত্যাহার করা হল। একই সঙ্গে সেন্সাস কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হলেও স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের যেন এমনভাবে সেন্সাসের কাজে ব্যবহার করা হয়, যাতে স্কুলের নিয়মিত পঠনপাঠন ও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবর্ষ কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। 

তবে নতুন নির্দেশিকা জারির ফলে এখন থেকে জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওই কাজের দিনগুলিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও তা বিশেষ ছুটি বা ‘অন ডিউটি’ হিসেবেই ধরা হবে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে শিক্ষকেরা নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন। তবে স্কুল চলাকালীন শিক্ষকেরা এই কাজ করলে স্কুলগুলির পঠনপাঠন কীভাবে সচল রাখা যাবে, তা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement