এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

দুর্গাপুরে নাবালক ছাত্রদের দিয়ে রক্তদানকাণ্ড, অবশেষে পুলিশের জালে মূল চক্রী সহ ৩

By Eaibanglai - August 07, 2026
— Advertisement —
Advertisement
দুর্গাপুরে নাবালক ছাত্রদের দিয়ে রক্তদানকাণ্ড, অবশেষে পুলিশের জালে মূল চক্রী সহ ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- নাবালক স্কুলছাত্রদের নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানো হচ্ছে। এমনই অভিযোগে সম্প্রতি শোরগোল পড়ে যায় ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরে। অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। অবশেষে  পুলিশের জালে ধড়া পড়ল মূল চক্রী-সহ তিন জন। ধৃতরা হল অমিত প্রসাদ, দেবপ্রিয় চক্রবর্তী ও মহম্মদ হাবিবুল্লাহ। দেবপ্রিয় দুর্গাপুরের একটি সরকারি স্কুলের ছাত্র।  অমিতের বাড়িও দুর্গাপুরে, সে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে।  মালদার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ দুর্গাপুরে একটি হোটেলে কাজ করত। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত আছে তার খোঁজ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

দিন দুই আগে দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রদের টাকা দিয়ে রক্ত নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পড়ুয়াদের ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ বলে দেখিয়ে শহরের এক নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া হতো। রক্তের পরিবর্তে পড়ুয়াদের হাতে গুঁজে দেওয়া হয় টাকা। বিষয়টি নজরে আসার পরই অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে  ধৃতদের মধ্যে দেবপ্রিয়র দায়িত্ব ছিল স্কুল পড়ুয়া নাবালক ছাত্রদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদানের জন্য দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া। বিনিময়ে ডোনার পিছু ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পেত দেবপ্রিয়। তাকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত করেছিল হাবিবুল্লাহ ও অমিত প্রসাদ। এই দু'জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথমে দেবপ্রিয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হাবিবুল্লাহ ও অমিতের খোঁজ পায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় দাবি করেছে, তাকে এই কাজে নামিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিতপ্রসাদ যাদব।

পুলিশ জানিয়েছে টাকার বিনিময়ে রক্তদান করেছিল এমন ছ'জন নাবালক ছাত্রের সন্ধান এখনও পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার নতুন করে তিন অভিভাবক দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

যে স্কুলের ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দেনযানী বোস বলেন, ‘ এই চক্রের জাল অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু আমার স্কুল নয়, তদন্ত করলে দেখা যাবে দুর্গাপুরের অনেক স্কুলের ছাত্ররাই এই কুচক্রের জালে জড়িয়ে পড়েছে।’

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement