সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- চিত্তরঞ্জনের জাতীয় স্তরের প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় তথা সিএলডাব্লু কর্মী এরিক লাকড়া হত্যাকাণ্ডে অবশেষে পুলিশের জালে অন্যতম মূল অভিযুক্ত শুভম পান্ডে। বেশ কিছুদিন বিভিন্ন রাজ্যে আত্মগোপন করে থাকার পর, গত ১৭ই সেপ্টেম্বর আসানসোল আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে। আদালত থেকে অভিযুক্তকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ।
গত ৮ই মার্চ চিত্তরঞ্জন রেল স্টেশনের কাছে এরিক লাকড়ার চারচাকা গাড়ির সাথে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বাইকের সামান্য ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, এর জেরেই যুবকদের দলটি এরিক লাকড়ার গাড়ি ধাওয়া করে ওভাল ময়দান সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাবের সামনে তাঁকে আটকায় এবং গাড়ি থেকে বের করে নৃশংসভাবে মারধর করে। পরবর্তীতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদের মৃত্যু হলে গোটা চিত্তরঞ্জন জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ধৃত শুভম পান্ডের মা ঝাড়খণ্ডের একটি আদালতের আইনজীবী হওয়ার সুবাদে সে আইনি ফাঁক গলে রেহাই পাওয়ার বহু চেষ্টা করেছিল। আগস্টের শেষে কলকাতা হাইকোর্টে তার আগাম জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। পুলিশ ঝাড়খণ্ডসহ একাধিক রাজ্যে জাল বিছানোয় এবং একের পর এক ডেরা বদল করেও নিস্তার মিলবে না বুঝে শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় শুভম।
এই মামলায় ইতিপূর্বেই আয়ুষ ভগৎ নামে আরেক মূল অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করেছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবার শুভম পান্ডে ও আয়ুষ ভগৎকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। তদন্তকারীদের আশা, এই দুজনকে জেরা করে ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক তৃতীয় অভিযুক্ত রাজ খানেরও দ্রুত নাগাল পাওয়া সম্ভব হবে।