এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- পশ্চিমবঙ্গের যোগ্য কোনো নাগরিকের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। নিবিড় ভোটার তালিকা অর্থাৎ এসআইআর থেকে বাদ যাওয়া ভোটারদের কাছে ফের নাম তোলার সুযোগ। আর তা তুলতে একেবারে নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি এক নির্দেশিকা জারি করে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে কোনো ধরণের অসঙ্গতি বা অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি চার স্তরের নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নিজেদের আবেদন বা অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। এই বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত (২৪টি) জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বিশেষভাবে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এসআইআরে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের নাম তুলতে বিএলও-রা এবার বাড়ি বাড়ি যাবেন। ফর্ম-৬ পূরণ করে নাম তোলার ব্যবস্থা করবে। এছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় ক্যাম্প করা হবে। নাম তোলার জন্য সেখানেও আবেদন করা যাবে।
ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন, সংযোজন বা কোনো নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। একদম বুথ স্তরে প্রথম যোগাযোগের মাধ্যম হলেন বুথ লেভেল অফিসার। সহ-নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের কাছেও আবেদন করা যাবে। বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া সম্ভব। এছাড়াও জেলার সর্বোচ্চ নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ জেলাশাসকের দফতরেও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ জানানো যাবে।
অফলাইনের পাশাপাশি নাগরিকরা চাইলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল জাতীয় ভোটার সেবা পোর্টালঅথবা ব্যবহার করে বাড়ি বসেই অনলাইন মাধ্যমেও ফর্ম-৬ (নতুন নাম নথিভুক্তকরণ) বা ফর্ম-৮ (সংশোধন বা স্থানান্তর) জমা করতে এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া জাতীয় স্তরের হেল্পলাইন নম্বর ১৯৫০-এ ফোন করেও নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ জানানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন রদবদল ঘটে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সংশোধনের জেরে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহালের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়। সেই অভিজ্ঞতার পর, এবার যাতে কোনো প্রকৃত ও যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই কমিশন মাঠ পর্যায়ে এই বিশেষ শিবির ও চার স্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তির রূপরেখা তৈরি করেছে।