সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের খরা কাটাতে এবং উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটাতে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারত সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘ভাব্য’ ( Bharat Audyogik Vikas Yojna) প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশ্বমানের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্পপার্ক গড়ে তোলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার দ্রুত এই সংক্রান্ত প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে চলেছে।
ভব্য প্রকল্পের শর্তানুযায়ী প্রতিটি পার্কের জন্য ন্যূনতম ১০০ একর আইনি জটমুক্ত ও সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন জমি থাকা বাধ্যতামূলক। পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকার এই শর্তপূরণ করে দুটি উপযুক্ত জমি বেছে নিয়েছে। আসানসোলের হীরাপুরে প্রায় ১৪৮.৬ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নদিয়ার ধুবুলিয়ায় ১১৮.৫ একর জমি এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
'প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ মডেলের অন্যতম সুবিধা হল, শিল্প সংস্থাগুলিকে কারখানা তৈরির আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। শিল্পস্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ, জল, রাস্তা সহ বিভিন্ন মৌলিক পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হবে। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের সময় ও খরচ দুটোই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসানসোল-বর্নপুর শিল্পাঞ্চল আগে থেকেই লোহা, ইস্পাত ও ভারী শিল্পের জন্য সুপরিচিত। হীরাপুরে এই বিশ্বমানের পার্কটি তৈরি হলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের এক নতুন হাব গড়ে উঠবে। এর সরাসরি সুফল পাবে স্থানীয় যুবসমাজ। কর্মসংস্থানের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং হাজার হাজার স্থানীয় যুবকের জন্য তৈরি হবে নতুন কাজের সুযোগ।
বর্নপুরে শিল্পপার্ক তৈরির খবর সামনে আসতেই স্থানীয় শিল্পমহল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি পবন গুটগুটিয়া এই উদ্যোগকে বর্নপুরের শিল্পক্ষেত্রে বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, হীরাপুরের ঢাকেশ্বরী কটন মিলের প্রায় ১৪৮ একর জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তোলার অনুমোদন বর্নপুরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই শিল্পপার্ক তৈরি হলে নতুন নতুন শিল্প সংস্থা এলাকায় আসতে পারে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা চেম্বার অফ কমার্সের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকার এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। শিল্পপার্ক তৈরি হলে নতুন বিনিয়োগ আসার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করেছেন সংস্থা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই খবরকে ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশা, শিল্পপার্ক চালু হলে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, বাইরে কাজের জন্য মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং বর্নপুরে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হবে।