eaibanglai
Homeএই বাংলায়ক্যান্সার বিডিএ চেয়ারপারসনের: ফের পিছিয়ে গেল রায়দান

ক্যান্সার বিডিএ চেয়ারপারসনের: ফের পিছিয়ে গেল রায়দান

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হাসপতালে থাকা অসুস্থ বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সনের লাইভ ভিডিও বয়ান নথিভুক্ত করলেন বিচারপতি।

গত ২০১৭’ র একটি খুনের চেষ্টার মামলায় বিডিএ চেয়ারপারসন কাকলী গুপ্ত তা সহ ১৩জন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, সমর্থককে সোমবার দোষী সাব্যস্ত করেছেন ফাস্ট ট্র্যক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র। মঙ্গলবারই অন্য ৬ বিচারপতির সাথে হঠাৎই বিচারপতি মিশ্রর ঝাড়গ্রাম কোর্টে বদলীর আদেশ আসে।

এদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রায়দান বুধবারও হল না। সম্ভবতঃ বৃহস্পতিবার রায়দান হতে পারে, বলে আইনজীবিদের একাংশ জানিয়েছেন।

আসামীপক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিত দাস এদিন জানিয়েছেন, “১৩জনের মধ্যে কাকলী গুপ্ত তা অসুস্থ হয়ে বর্ধমানের অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এদিন কাকলী গুপ্ত তা ছাড়া বাকি ১২জন আদালতে হাজির ছিলেন।” বর্ধমান আদালতের ফাষ্ট ট্রাক সেকেণ্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এদিন প্রত্যেকের বক্তব্য শোনেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। কাকলী গুপ্ত তা-এর ভার্চুয়ালি বক্তব্য শোনেন। বিশ্বজিতবাবু জানিয়েছেন, এই মামলায় যে সমস্ত ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। বিচারক এদিন আসামীপক্ষের আইনজীবীদের লিখিতভাবে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সেই লিখিত বক্তব্য জানানো হবে বিচারকের কাছে। বিশ্বজিতবাবু এদিন জানিয়েছেন, “বিডিএ-এর চেয়ারপার্সন কাকলী গুপ্ত তা ক্যানসার আক্রান্ত। এখনও পর্যন্ত তিনি ২৮টি কেমো নিয়েছেন। এদিনও চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার সুগার লেবেল প্রায় ৪০০-র ওপর। তার প্যানক্রিয়াসেও সমস্যা রয়েছে।” বিশ্বজিতবাবু জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই তারা সিআরপিসির ৩৬০ ধারা অনুযায়ী কাকলী গুপ্ত তা-কে এই সাজা থেকে মুক্তি দেবার আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনের সঙ্গে তার চিকিত্সা সংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন। বিশ্বজিতবাবু জানিয়েছেন, এই ধারা অনুসারে ফাঁসি অথবা যাবজ্জীবন সাজার যোগ্য অপরাধ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে দোষীকে সংশোধনের সুযোগ দিতে ৩ বছরের ছাড় দেওয়া যায়। পাশাপাশি বিশ্বজিতবাবু জানিয়েছেন, কাকলীদেবীর বিগত দিনেও কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। তাই তারা এই আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বাকিদেরও এদিন তারা সাজা কম করার জন্য বিচারকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, যে যে ধারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে তাতে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। আসামীপক্ষের আইনজীবীরা এদিন আইনের ধারা ব্যাখ্যা করে সাজা কম করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। অপরদিকে, এদিন সরকারী পক্ষের আইনজীবী হরিদাস মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিচারক এদিন আসামীদের বক্তব্য শুনেছেন। আসামীপক্ষের তরফ থেকে লিখিতভাবে বক্তব্য জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আসামী পক্ষের আইনজীবীরা এব্যাপারে সময় চেয়েছেন। তাই এদিন রায়দান পিছিয়ে গেছে। এদিকে, বুধবারও এই রায়দান ঘোষণাকে কেন্দ্র গোটা আদালত চত্বরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। হাজির ছিলেন বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক সহ বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি গার্গী নাহা এবং একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিনও অভিযুক্তদের আদালতে নিয়ে আসার পথে আদালত চত্বরে উপস্থিত থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থক নেতৃত্বরা জয় বাংলা শ্লোগান দিতে থাকেন। যদিও তৃণমূল বিধায়ক সহ একাধিক নেতৃত্ব এদিন তাঁদের শ্লোগান দিতে নিষেধ করেন এবং আদালত চত্বর থেকে তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাবার উদ্যোগ নেন।

আদালত চত্বরে তৃণমূলের পতাকা টাঙানো এবং জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়া নিয়েও এদিন আইনজীবী মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। একাধিক আইনজীবী বলতে থাকেন, হাকিম (বিচারক) সিসিটিভি ফুটেজে সবটাই দেখছেন। এই ঘটনা মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রভাবশালী তত্ত্বে আসামীদের সাজার বিষয়টি প্রভাবিত হতে পারে। উল্লেখ‌্য, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রায়ান-১-এর তত্কালীন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য জীবনকৃষ্ণ পালের বাবা দেবু পালের ওপর হামলার ঘটনায় কাকলী গুপ্ত তা সহ মোট ১৫জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এর মধ্যে ২জনকে বেকসুর খালাস করা হয়। বাকি ১৩জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। সোমবার ফাষ্ট ট্রাক সেকেণ্ড কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এই ১৩জনকে কাষ্টডিতে নেন। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও কাকলী গুপ্ত সহ মোট ৪জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফলে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা পিছিয়ে যায়।

বিচারক জেল সুপারকে ওই ৪জনকে শারীরিকভাবে হাজির হতে অথবা ভার্চুয়ালি তাদের হাজির করানোর জন্য নির্দেশ দেন। বুধবার ৩জন সহ মোট ১২জন হাজির হলেও কাকলী গুপ্ত তা গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁর ভার্চুয়ালি বক্তব্য শোনেন বিচারক।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments