সংবাদদাতা পুরুলিয়াঃ- বড়দিনের ছুটি থেকেই রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। শীতের রোদ গায়ে মেখে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় -পরিজন অথবা মনের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পড়ছেন মানুষজন। এর মধ্যেই নতুন বছরে পুরুলিয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। লাল মাটি, শাল পলাশের জঙ্গল আর পাহাড়ের টানে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা। যার মধ্যে অন্যতম পুরুলিয়ার পাখি পাহাড় (উচ্চতা ৮০০ ফুট)।
অযোধ্যা পাহাড়ের কাছেই নৈসর্গিক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশকে সঙ্গে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাখি পাহাড়। মনোরম পরিবেশের পাশাপাশি এই পাহাড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য শৈল্পিক কর্ম। পাহাড় জুড়ে রয়েছে শিলায় খচিত পাখির ভাস্কর্য। যা মূলত শিল্পি চিত্ত দে-এর তৈরি। প্রসঙ্গত ১৯৯৭ সালে সরকারি উদ্যোগে এই শিল্প কর্ম শুরু করেন শিল্পী। সাধারণত ভাস্কর্যশিল্পীরা বাছাই করা পাথর স্টুডিওতে নিয়ে গিয়ে খোদাই করে ভাস্কর্য শিল্প তৈরি করেন। কিন্তু এখানে পুরো একটি পাহাড়কেই শিল্পের মাধ্যম হিসবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাহাড় সংলগ্ন আদিবাসী গ্রামের মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের মধ্যে থেকে ২৪ জনকে বেঁছে নেন শিল্পী। তাদের সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ের শিল্প কর্ম গড়ে তোলেন। রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দড়িতে ঝুলে ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে খোদাই করে পাহাড়ের গা জুড়ে ৬০টির বেশি পাখির ভাস্কর্য গড়ে তোলেন শিল্পীরা। যার সব চেয়ে ছোটো ডানার দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট আর সব চেয়ে বড়ো ডানার দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট। পাখির ভাস্কর্য ছাড়াও খোদাই করা হয়েছে নানা পশুর অবয়ব।
প্রথমে পাহাড়টির নাম ছিল ‘মুরা বুরু’ । ধীরে ধীরে পাহাড়টি ‘পাখি পাহাড়’ নামে পরিচিতি পায় এবং পর্যটকদের কাছে এক জনপ্রিয় ডেস্টিনেশন হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি এই পাখি পাহাড়কেই জীবন জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন স্থানীয় পাহাড় সংলগ্ন শ্রীরামপুর গ্রামের মহিলারা। গ্রামের ৪০ জনের মহিলাদের একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই পাখি পাহাড়ের গাইড হিসেবে কাজ করছেন। পর্যটকদের পাহাড় ঘুড়িয়ে দেখানোর পাশাপাশি তাদের কাছে তুলে ধরছেন পাখি পাহাড় ও এলাকা সংক্রান্ত নানা তথ্য, যা পর্যটকদের ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলছে।
বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গাইড হিসেবে মূলত পুরুষদেরই দেখা যায়। পুরুষ প্রাধান্য এই পেশায় সাবলিল হয়ে উঠেছেন এলাকার মহিলা গাইডরা। স্বামী, সংসার, সন্তান সামলেও দক্ষভাবে পেশগত কাজ সামলাচ্ছেন এঁরা। এই গাইড মহিলাদের মতে এই কাজের মধ্যে দিয়ে তাঁরা তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতাকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন। পেয়েছেন অর্থনৈতিক স্বাধীনতার স্বাদ। আর এই সফলতা তাদের সংসার জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক কথায় বলতে গেলে এই উদ্যোগ এলাকার মহিলাদের কাছে আর্থিক স্বাধীনতার এক নতুন দিশা খুলে দিয়েছে।


















