মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ– দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ইস্পাত নগরীর জে এম সেনগুপ্ত রোড এর ওপর অবস্থিত ডিএভি মডেল স্কুল দুর্গাপুর, আজ তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করল। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি আগে ১৯৭৫ সালে তিনটি শ্রেণিকক্ষ,মাত্র তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৩০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হয়েছিল ডিএভি মডেল স্কুলের পথ চলা। বর্তমান কালে প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পাঠ্যরত এই সর্বভারতীয় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। গত কয়েকদিন ধরেই ইস্পাত নগরী বিভিন্ন রাস্তাঘাট কে নববধূর সাজে সাজিয়ে স্কুল জানান দিয়েছে আগামীতে তাদের স্বর্ণময় উপস্থিতি। ইস্পাত নগরীর বিভিন্ন রাস্তাতে বড় বড় ব্যানার, পোস্টার ও ওয়েলকাম গেটে ভোরে গিয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার ওপর রংবেরঙের আলপনা ও রেখাচিত্রে ফুটে উঠেছে স্বর্ণময় ইতিহাসের ইতিকথা।


গতকাল সন্ধ্যায় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিশাল অডিটোরিয়ামে প্রায় আড়াই হাজারেরও ওপর শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উপস্থিত ছিলেন ডিএভি স্কুল ও কলেজের প্রাণপুরুষ পদ্মশ্রী পুর্নম সুরি মহাশয়। এই অনুষ্ঠানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মণি সুরি এবং নিশা পেসিন। বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে সন্ধ্যায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


এদিন পদ্মশ্রী পুনম সুরি উপস্থিত সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের কে স্কুলের আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরি করার কিছু উল্লেখযোগ্য উপদেশ দেন। “শিক্ষার আলোয় শিক্ষিত করার আগে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে একজন আদর্শ মানব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপস্থিত সকল শিক্ষক শিক্ষিকাদের কে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। এদিন তিনি তাঁর জীবনের বহু ব্যক্তিগত ঘটনা ও বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীর মাধ্যমে গুরু শিষ্যের যে পরম্পরা আদি যুগ থেকে চলে আসছে , সেই পরম্পরাকে অনুসরণ করে আগামী দিনে ভারতবর্ষের বুকে আরো বেশি আদর্শ ও ব্যক্তিত্ববান ছাত্র-ছাত্রী গড়ে তোলার ডাক দেন।”


সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার সকালে স্থানীয় এ এস পি স্টেডিয়াম সংলগ্ন রোটারি থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীদের দল, রংবেরঙের পোশাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। একপ্রকার রাজকীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সূচনা হয় সুবর্ণ জয়ন্তীর স্বর্ণময়ী সকাল। পরে ডিএভি মডেল স্কুলের নিজস্ব প্রেক্ষাগৃহ চলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা একটি বিশেষ প্রদর্শনী। ডিএভি মডেল স্কুলের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীরা এদিন বাংলার বিখ্যাত বালুচরী শাড়ি নির্মাণ ও তার ইতিকথা, ডোগরা শিল্প, পোড়ামাটির হস্তশিল্প বিষয়ক এক বিশেষ প্রাঙ্গণে আগত সকল মাননীয় সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। সাহিত্য ক্ষেত্রের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল সাহিত্যের বিশাল সম্ভার প্রদর্শিত হয়। তাছাড়াও বাংলার শিল্প ও কল-কারখানা বিষয়ক একাধিক মন্ত্রমুগ্ধ করা পরিবেশন ও মডেলের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা আগত সকল অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেন। এক কথায় বলতে গেলে ডিএভি মডেল স্কুলের নিজস্ব প্রেক্ষাগৃহ এদিন এক টুকরো বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। ডিএভি স্কুল প্রাঙ্গণে এদিন প্রায় শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট জনেরা ২৫১ কুণ্ডের হবন অনুষ্ঠানে সম্মিলিত হন। পবিত্র বৈদিক মন্ত্রের উচ্চারণের সাথে সাথে আকাশে বাতাসে সোনালী আভা ছড়িয়ে পড়ে স্কুল প্রাঙ্গন ও তার আশেপাশের এলাকায়। মন্ত্রমুগ্ধ করা এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় এদিন ডিএভি মডেল স্কুলের প্রাঙ্গন।


এদিন সন্ধ্যায় ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিবেশিত একাধিক রংবেরং এর মন্ত্রমুগ্ধ করা নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করা হয় । এই সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মাননীয় মন্ত্রী মলয় ঘটক, বলিষ্ঠ পুলিশ কর্তা অজয় নান্দ, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও ইস্কো ইস্পাত কারখানার ডাইরেক্টর ইনচার্জ সুজিত মিশ্র, দুর্গাপুর নগর নিগমের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বোর্ডের চেয়ারপার্সন শ্রীমতি অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত সহ আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ। সমগ্র অনুষ্ঠানটির শেষে ডিএভি মডেল স্কুলের অধ্যক্ষা তথা ডিএভি মডেল স্কুলের রিজিওনাল ডাইরেক্টর শ্রীমতি পাপিয়া মুখার্জি আগত সকল অতিথিবর্গ, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকগণ কে স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এদিন তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় আগামী দিনে দুর্গাপুর ডিএভি মডেল স্কুল ভারত বর্ষ তথা পৃথিবীর বুকে তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সুপ্রতিষ্ঠতো করার লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।




















