সৌভিক সিকদার, আউসগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান -: ওদের সাধ অনেক, কিন্তু সাধ্য সীমিত। সেই সীমিত সাধ্যকে পাথেয় করে ওদের বারবার এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। ওরা আউসগ্রামের দ্বারিয়াপুর বিবেকানন্দ ক্লাবের সদস্য।
দ্বারিয়াপুরের বিখ্যাত ডোকরা গ্রামের এই মানুষগুলি সংখ্যায় পাঁচজন। ওরা বড্ড অসহায়। কেউ নিঃসন্তান, কারও দৃষ্টিশক্তি কম, আত্মীয় স্বজন বলতে কার্যত কেউ নেই। ভিক্ষা করে দু’মুঠো চাল সংগ্রহ করলেও সেটা রান্না করে দেওয়ার মত কেউ থাকেনা। জীবনের শেষপ্রান্তে পৌঁছে খুবই অসহায় অবস্থার মধ্যে দিয়ে এদের দিন কাটে। ইচ্ছে থাকলেও ওদের জন্য এই মুহূর্তে বৃদ্ধাশ্রম খোলার মত আর্থিক সামর্থ্য বিবেকানন্দ ক্লাবের সদস্যদের নাই। এই পরিস্থিতিতে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওইসব অসহায় মানুষগুলি যাতে অভুক্ত না থাকেন তারজন্য আমৃত্যু ওদের পাশে থেকে ওদের হাতে চিঁড়ে, মুড়ি, গুড় ইত্যাদি শুকনো খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুকনো খাবার পেয়ে ওরা খুব খুশি।
প্রবীণ আশা কর্মকার বললেন, কখনোই ভাবিনি আজ আমাদের পাশে এসে কেউ দাঁড়াবে। ওদের জন্য খেতে তো পাব। ভগবান ওদের মঙ্গল করুন। কথা বলতে বলতে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে বৃদ্ধ মানুষটির।
প্রসঙ্গত ওদের সামাজিক কাজ দেখে স্থানীয় ভদ্রমহিলা শ্রাবনী খাঁ তার বাবার মৃত্যুদিবস উপলক্ষ্যে ওদের হাতে কিছু অর্থ তুলে দিয়ে কোনো ভাল কাজে সেই অর্থ ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেন। সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয় ওদের নতুন কর্মসূচি – ‘মানুষ মানুষের জন্য’।
তখন বিবেকানন্দ ক্লাবের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন, অয়ন, দীনেশ, সৌভিক, অসীম, দেবাঙ্কুর প্রমুখ। দেবাঙ্কুর বাবু বললেন, আমরা শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য কিছু করি না, কিছু করে ছবি তুলি। আমরা ওদের পাশে থাকবই – এব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।



















