eaibanglai
Homeএই বাংলায়প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন, ধৃত স্ত্রী ও প্রেমিক

প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন, ধৃত স্ত্রী ও প্রেমিক

সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুনের অভিযোগ। তদন্তে নেমে স্ত্রী ও প্রেমিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনা আসানসোলের জামুড়িয়া থানার শ্রীপুর ফাঁড়ির পরিহারপুর এলাকার। বুধবার শ্রীপুর ফাঁড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গোটা ঘটনাটি বিস্তারিত ভাবে জানান আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান জামুড়িয়ার পরিহারপুরের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর বছর ৫৩’র সঞ্জিত বাউরি। মঙ্গলবার এলাকারই পরিত্যক্ত খনি এলাকা থেকে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং খুনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা করে ফেলে।

জানা গেছে, সঞ্জিত বাউরির সঙ্গে ১৯ বছর আগে বাঁকুড়ার মৌসুমী বাউরির বিয়ে হয়। দম্পতির তিন মেয়েও রয়েছে। এরমধ্যেই মৌসুমী এলাকারই অন্য পাড়ার বাসিন্দা যুবক অভিরাম বাউরির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি স্ত্রীর এই সম্পর্কের কথা জেনে যায় সঞ্জিত এবং দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এরপরই প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করে মৌসুমী। সেই মতো গত সোমবার রাতে সঞ্জিত বাউরিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার মাথায় ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করে অভিরাম এবং দেহ পরিত্যক্ত খনির জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে। মঙ্গলবার খোঁজাখুজি শুরু করে নিখোঁজ সঞ্জিত বাউরির পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। তারাই প্রথমে পরিত্যক্ত খনি এলাকার কাছে সঞ্জিতের সাইকেল, চটি ও টুপি পড়ে থাকতে দেখে। পরে জঙ্গলের মধ্যে তার দেহ খুঁজে পায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে এবং পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।

এদিকে পরিবারের লোকজন খেয়াল করেন সঞ্জিতের দেহ উদ্ধারের পর থেকে তার স্ত্রী মৌসুমীর ফোনে বার বার কারো কল আসছে। সন্দেহ হওয়ায় তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায় ও ফোন নম্বর দেয়। পুলিশ সেই নম্বর ট্র্যাক করে মঙ্গলবার রাতেই এলাকার একটি ইটভাটা থেকে অভিরামকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি তাকে জেরা করতেই খুনের কথা স্বীকার করে পুরো ঘটনা খুলে বলে সে। এরপর গ্রেফতার করা হয় মৌসুমীকেও। বুধবার দুজনকেই আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়।

ডিসিপি (সেন্ট্রাল) জানান, ধৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জেরায় নিজেদের বয়ানে তাদের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেছে। এর পাশাপাশি পুলিশের হাতে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যেই এসেছে। ধৃতদেরকে হেফাজতে নিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments