সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আজ হল শিল ষষ্ঠী। অনেক কাল আগে এক সময় এক বামুন আর বামুন বৌ ছিল, তাদের সাত ছেলে আর বৌমা ছিল। তবে সেই বৌমাদের ছেলেপুলে হয়নি তাই বংশধরের চিন্তায় চিন্তিত শাশুড়ির কাছে একদিন মা ষষ্ঠী স্বয়ং বৃদ্ধার বেশে এসে বৌমাদের শীতল ষষ্ঠী করার কথা বলেন, পরে তাদের সন্তান হয়।
এই ঘটনার বহু বছর পর একবার মাঘের শীতে শাশুড়ি মা ঠিক করেন তিনি ঠান্ডা জলে স্নান বা ঠান্ডা ভাত খাওয়া কোনটাই করবেন না, তিনি গরম জলে স্নান করে গরম ভাত খাবেন। তার এই ভীমরতিতে তার বৌমারা চিন্তায় পড়ে যায়, কারণ হিসেব মতো সেই ষষ্ঠীর দিন শীতল খাবার খেতে হয়। তবু শাশুড়ির জেদের কাছে হার মেনে বৌমারা শাশুড়ির স্নানের জন্য গরম জল আর খাওয়ার জন্য গরম ভাত রান্না করে দেয়, এরপর দিনই অঘটন ঘটে। পরদিন ঘুম থেকে উঠে শাশুড়িমা দেখতে পান তার বৌমাদের ও বাড়ির পোষ্য বিড়ালের মৃত্যু হয়েছে, এই ঘটনার পর শাশুড়ি মা নিজের ভুল বুঝতে পারেন আর ষষ্ঠী মায়ের কাছে ক্ষমা চান।
এরপর ষষ্ঠী মা আবার এক বৃদ্ধার বেশে এসে শাশুড়িকে বলেন, পুজোর শিল থেকে দই হলুদের ফোঁটা নিয়ে প্রথমে বেড়ালের কপালে আর তারপরে বৌমাদের কপালে ঠেকাতে, শাশুড়ি মা সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেই কাজ হয়। সকলে বেঁচে ওঠে আর এই শীল ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য প্রচার হয়। এদিন গোটা সিদ্ধ খাওয়া হয় বলে একে গোটা ষষ্টীও বলে।



















