নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- ক্ষতিপুরণ নেই, উল্টে জোরপুর্বক গ্রামের ভেতর গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। পাইপ বসানোর ড্রিলে ফাটল ধরছে গ্রামবাসীদের ঘরে। আর তাতেই আপত্তি জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ল গ্রামবাসীরা। গ্রামের বাইপাস দিয়ে পাইপ লাইন নিয়ে যাওয়ার দাবীতে কাজ আটকে দিল ক্ষুব্ধ আদিবাসী গ্রামবাসীরা। শনিবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদের খান্ডারীডাঙা গ্রামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল বিশাল পুলিশ বাহিনী।

উল্লেখ্য, উর্জাগঙ্গা প্রকল্পে বাড়ী বাড়ী রান্নার গ্যাস পৌছানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেইমত এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহি পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেরকমই বছর দুয়েক আগে পানাগড় গ্রীড থেকে বীরভুম, মুর্শিদাবাদ পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। অধিকাংশ জায়গায় কাজ প্রায় শেষের মুখে। গত ২০২৪ সালে বুদবুদ থানার খান্ডারীডাঙা আদিবাসী পাড়ায় গ্রামবাসীদের আপত্তিতে কয়েক’শ মিটার কাজ থমকে যায়। অভিযোগ, গ্রামের ভেতর বড় বড় পাইপ বসানোর ড্রিল করার সময় ঘরবাড়ীতে ফাটল ধরছে। মাটি ধসে ঘরবাড়ী তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত আদিবাসী পরিবারগুলি। বছর দুয়েক আগে থমকে যাওয়া কাজ সম্প্রতি আবারও শুরু হয়। শনিবার গ্রামের মুখে কাজ শুরু হতেই আবারও আটকে দেয় ক্ষুব্ধ আদিবাসী পরিবারগুলি। পাইপ বসানোর কাজ আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার পুলিশ।

চন্দন মুর্মু নামে এক গ্রামবাসী জানান,” গ্রামের রাস্তা সম্প্রসারনের সময় আমরা ব্যাক্তিগত জমি কিছুটা করে দিয়েছি। তারপর এখন বড় বড় পাইপ গ্রামের ভেতর জোর করে নিয়ে যেতে চাইছে আমাদের বসত জমির ওপর। এর আগে ড্রিল করে কাজ শুরু হয়েছিল। তখন বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ীর কিছুটা অংশ মাটিতে বসে যায়। ফাটলও ধরে। তখন আপত্তি জানিয়েছিলাম, বন্ধ ছিল কাজ। সংস্থার লোক প্রশাসন আমাদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করে এখন জোর করে পাইপ বসসনোর কাজ করছে। আমাদের চাষজমি ইতিমধ্যে নষ্ট করে দিয়েছে। তার কোন ক্ষতিপুরণ দেয়নি। তাই আটকে দিয়েছি। আমাদের দাবী, গ্রামবাসীদের কোনরকম ক্ষতি করা চলবে না। গ্রামের থেকে কিছুটা দুরে বাইপাস করে নিয়ে যাক।” জাতীয় স্বার্থে কারও জমির ওপর সরকারি কাজ করা হলে, তার নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপুরণ দিতে হয়। প্রশ্ন, কোনরকম ক্ষতিপুরণ না দিয়ে কিভাবে আদিবাসীদের জমির ওপর পাইপলাইন বসানোর কাজ করছে বরাত পাওয়া সংস্থা? জানা গেছে, অনুমতির জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতে রেভিনিউ বাবদ প্রায় ১১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জমা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থা। স্থানীয় কোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ আলাউদ্দীন বলেন,” গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এইপিসিএল সংস্থার তরফে রাজীব কুমার জানিয়েছেন, গ্রামের ভেতর অনেকটাই মাটির নীচে পাইপ বসানো হবে। তাতে ক্ষতি সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নেই। তারপরও কেন কাজ বন্ধ করল, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”



















