নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- সোমবার থেকে শুরু হলো চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রথম দিনেই বিপত্তি। বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড ফেলে এলো পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ পুলিশের। দুর্গাপুর মহকুমা জুড়ে পরীক্ষার প্রথম দিনে ওঠে এল এমন নানা ছবি।
দুর্গাপুরের এভিবি হাইস্কুলে এ বছর মোট ৩৫৮ জন পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। সকাল থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্র চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নেয়। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক উৎসাহ বাড়াতে নিউটাউনশিপ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পেন, গোলাপ ফুল, জলের বোতল। পরীক্ষা কেন্দ্র জুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অন্যদিকে কাঁকসার কুলডিহা এলাকার বিশ্বজিৎ কর্মকার তার পরীক্ষা কেন্দ্র মলানদিঘী দুর্গাদাস বিদ্যামন্দিরে পৌঁছে গিয়ে লক্ষ্য করে তার ব্যাগে অ্যাডমিট কার্ড নেই। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা! মানসিক চাপ ও ভয়ের জেরে বাড়িতেই অ্যাডমিট কার্ড ফেলে রেখে এসেছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে মাথায় হাত ওঠে বিশ্বজিতের। তখনই বিষয়টি জানতে পেরে এগিয়ে আসে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিক পুলিশ বুধন সূত্রধর। সে তার বাইকে করে বিশ্বজিতকে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ফের বিশ্বজিতকে পৌঁছে দেয়। সময়মতো পৌঁছে পরীক্ষায় বসতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিশ্বজিৎ ও তার পরিবারের লোকজন। বিশ্বজিৎ জানায় “স্যার না থাকলে পরীক্ষায় বসতেই হয়তো পারতাম না। স্যারকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
এবার রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লক্ষ ৭১৩৪০ জন। এর মধ্যে ৪ লক্ষ ২৬,৭৩৩ জন ছাত্র এবং ৫,৪৪,৬০৬ জন ছাত্রী। এক জন তৃতীয় লিঙ্গভুক্ত পরীক্ষার্থীও আছে। মোট ২৬৮২টি স্কুলে পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, ইয়ার প্লাগ ও কোনও রকম ব্লুটুথ নিয়ে যাতে প্রবেশ না করে তা সুনিশ্চিত করছে পুলিশ।


















