eaibanglai
Homeএই বাংলায়প্রেম দিবসে গোলাপ না পেয়ে দুর্গাপুরে আত্মঘাতী গৃহবধূ

প্রেম দিবসে গোলাপ না পেয়ে দুর্গাপুরে আত্মঘাতী গৃহবধূ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ– হিন্দু ধর্মের অত্যন্ত পবিত্র দিন আজ শিবরাত্রি। আজকের এই দিনটিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষেরা শিব ও পার্বতীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দিন হিসেবে পালন করে আসছেন আদি অনন্তকাল থেকে। কিন্তু গতকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল ইংরেজি ভ্যালেন্টাইন ডে আর ওই দিনে নাকি পাশ্চাত্য দেশের রীতিনীতি মেনে প্রেমে আবদ্ধ যুবক যুবতীরা একে অপরকে গোলাপ ফুল অর্পণ করে প্রেম ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে।

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের প্রায় প্রতিটি ফুলের দোকানে গতকাল ছিল গোলাপ ফুল কেনার হিরিক। শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি ফুল দোকানেই সুদূর বাঙ্গালোর থেকে আনা এক একটি গোলাপের দাম প্রায় ৭০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্তু এত দাম দিয়ে গোলাপ কিনতে পিছপা হয়নি শিল্পাঞ্চলের প্রেমিক যুগলেরা। সারা শিল্পাঞ্চল এদিন প্রেমিক প্রেমিকাদের মধুর গুঞ্জনে মুখরিত হয়েছিল। কিন্তু অন্যদিকে ১৬ই ফেব্রুয়ারি সকালের আলো ফোটার সাথে সাথেই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল স্থানীয় ইস্পাত নগরীর শরৎচন্দ্র এভিনিউয়ের একটি আবাসনে।

স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, গতকাল ১৪ই ফেব্রুয়ারি “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” উপলক্ষে গত ১০ বছর ধরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ বর্ষা নামক এক গৃহবধূ, স্বামী প্রসুনের কাছ থেকে “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” উপলক্ষে গোলাপ উপহার না পেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় এলাকার মানুষের জমায়েত হতে শুরু হয় ওই আবাসনের আশেপাশে। সবার মুখে একটাই কথা শুধুমাত্র একটা গোলাপের জন্য কিভাবে এক গৃহবধূ আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন?

স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, ১০ বছর আগে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা প্রসুনের সাথে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে বিবাহ করেন শরৎচন্দ্র এলাকার বর্ষা নামক ওই মহিলা। পারিবারিক সূত্রে মারফত জানা গেছে, নিজের নয় বছর বয়সের একমাত্র পুত্র কে সঙ্গে করে গতকাল সন্ধ্যায় বর্ষা তার বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাত্রি আটটা নাগাদ বাপের বাড়ির লোকজনদেরকে তিনি জানান তার স্বামী প্রসুনের বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে। প্রসুন তার জন্য গোলাপ ফুলের উপহার নিয়ে আসবে আজকে “ভ্যালেন্টাইন্স ডে” উপলক্ষে। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে হবে। কিন্তু বাড়ি ফিরে স্বামী প্রসুন কোন গোলাপ নিয়ে বাড়ি ফেরেননি দেখে অল্প বিস্তর ঝগড়াঝাঁটিও হয় ওই পরিবারের মধ্যে। পরে ভোররাত্রের দিকে আত্মঘাতী হন ওই বর্ষা নামক গৃহবধূ।

স্থানীয় সূত্র মারফত এও জানা গেছে, যে বর্ষা নামক ওই মহিলা খুবই মিশুকে স্বভাবের ছিলেন এবং আশেপাশের এলাকার সকলের সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। বর্ষা নাকি তার স্বামী প্রসুনকে সন্দেহ করতেন, তার সাথে অন্য কোন মহিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। হয়তো সেই অভিমানের থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বর্ষা নামক গৃহবধূ। এদিকে শিল্পাঞ্চলে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার খবর চাউর হতেই এখন একটাই প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে একটি গোলাপ কি প্রেম নিবেদনের জন্য যথেষ্ট? আর একটি গোলাপ কি এত অমূল্য যে তার জন্য একটা তরতাজা জীবন শেষ হয়ে যায়? স্থানীয় এলাকায় এই ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments