নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- নির্বাচন পরবর্তী নিরাপত্তা সহ একগুচ্ছ দাবীতে, জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশনের হাতে স্মারকলিপি দিল আদিবাসী সমাজ। বুধবার আসানসোল সার্কিট হাউসে জাতীয় তপশিলি জনজাতি কমিশনের চেয়ারপার্সনের মিটিংয়ে আবেদন পত্র তুলে দেয় পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা, জামুড়িয়া, দুর্গাপুরের আদিবাসী সমাজ। প্রসঙ্গত আদিবাসী গ্রামের উন্নয়নের খতিয়ান, সমস্যা অভাব, অভিযোগ দেখতে রিভিউ মিটিংয়ে রাজ্য সফরে এসেছেন জাতীয় তপশীলি জনজাতি কমিশনের চেয়ারপার্সন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ র বিধানসভা নির্বাচনের ভোট পরবর্তী হিংসার দগদগে ঘা এখনও শুকোয়নি বুদবুদের দেবশালারা কাঁকোড়া আদিবাসী গ্রামে। গত ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল আউশগ্রামের দেবশালার কাঁকোড়া। দুটি পাড়া মিলিয়ে শ’খানেক পরিবারের বসবাস৷ ভোট পরবর্তী হিংসার আগুনে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, ভাঙচুর, তছনছ করা হয় বাড়ীর জিনিসপত্র। উদ্ধার হয় তাজা বোমা। আতঙ্কে প্রান বাঁচাতে আস্তানাহীন জঙ্গলে পালিয়েছিল গ্রামের শিশু থেকে মহিলারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে র্যাফ, কমব্যাট ফোর্স। পাঁচবছর পরও সেদিনের ঘটনার আতঙ্কে সিটিয়ে গোটা গ্রাম। এর পাশাপাশি রয়েছে বঞ্চনার অভিযোগ। সারাই হয়নি রাস্তা, পানীয় জলের নলকূপ। গ্রীষ্মের দাবদহের আগে ইতিমধ্যে চরম হাহাকার শুরু হয়েছে পানীয়জলের। প্রশাসনের দরজায় ঘুরে সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে আদিবাসী গ্রামের উন্নয়নের খতিয়ান, সমস্যা অভাব, অভিযোগ দেখতে রিভিউ মিটিংয়ে রাজ্য সফরে এসেছেন জাতীয় তপশীলি জনজাতি কমিশনের চেয়ারপার্সন আশা লাকড়া। বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রথম পর্যায়ে জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপর জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং করেন তিনি।
এদিন আদিবাসী সমাজের পক্ষে সুশীল টুডু, শুকু মাঝি, শান্ত মুর্মু প্রমুখরা ১০ দফা দাবীর আবেদন পত্র তুলে দেয় কমিশনের চেয়ারপার্সনের হাতে। এদিন আদিবাসী সমাজের পক্ষে শুকু মাঝি বলেন,” আসানসোল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের জবা আটপাড়া গ্রামে এখনও আবাস যোজনা ও স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উজ্জ্বালা যোজনার গ্যাস সংযোগ জোটেনি গ্রামে। তাই আদিবাসী গ্রামে পরিকাঠামো তৈরি করা দরকার। ওইসব আদিবাসী গ্রামে সরকারি প্রকল্প রূপায়ন দরকার।” আদিবাসী সমাজের পক্ষে সুশীল টুডু বলেন,” পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রায় সব’কটি ব্লকে আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। বারাবনি ব্লকে কারখানার দুষণে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে আদিবাসী শ্রমিকরা। তার নিয়ন্ত্রন করা দরকার। রানিগঞ্জ খনি অঞ্চলে ধসকবলিত আদিবাসী গ্রামগুলির পুনর্বাসন দরকার। জেলায় তপশীলি উপজাতি শংসাপত্র জালিয়াতি রোধ করতে হবে। জেলায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী কারখানায় আদিবাসী যুবক-যুবতিদের নিয়োগ করতে হবে। কারখানাগুলিতে আদিবাসী শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে। জেলায় প্রতিভাবান খেলওয়াড়দের সরকারি কাজে নিয়োগ করতে হবে। কাঁকসা রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে পরিকাঠামোর উন্নতি করা দরকার। সেখানে খাবার মান আরও রুচিশীল ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। কেন্দ্র সরকারের অনুদানে চলা আদিবাসী অধিষ্যুত ব্লকে একলব্য স্কুল তৈরি করতে হবে। আদিবাসী গ্রামে জলজীবন প্রকল্পে পরিশ্রুত পানীয়জলের ব্যাবস্থা করতে হবে।”
পশ্চিম বর্ধমান আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের পক্ষে শান্ত মুর্মু বলেন,” গত ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যজুড়ে আদিবাসী গ্রামগুলিতে ব্যাপক হারে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। রাতের অন্ধকারে বহু আদিবাসী পরিবারকে বেঘরে হতে হয়েছিল। গ্রামের পর গ্রাম উৎখাত ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার আসন্ন নির্বাচনে ও ফলাফলের পর অন্তত তিনমাস আদিবাসী গ্রামে বাড়তি সুরক্ষার জন্য আধাসেনা মোতায়ন করতে হবে।”


















