জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, আসানসোল -: বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রটি পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম চর্চিত আসন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রটিতে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস ব্যানার্জ্জী এবং বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধানসভার বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের মধ্যে।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও দক্ষ সংগঠক তাপস ব্যানার্জীকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস আসনটি পুনরুদ্ধারে নেমেছে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ তার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকার মানুষের প্রধান অভিযোগ, বিগত সাড়ে চার বছর তাকে সেভাবে এলাকায় দেখা যায়নি। পানীয় জলের সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং শিল্পাঞ্চলের ধুঁকতে থাকা কলকারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষ যখন সংকটে পড়েছেন, তখন বিধায়কের “অগ্রণী ভূমিকা”র অভাব দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। অগ্নিমিত্রা যদি জিতে যায় তাহলে আবার ডুমুরের ফুল হয়ে যেতে পারেন বলে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা। লোকসভা নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়াটা অনেকেই মেনে নিতে পারেনি। এদিকে তাপস ব্যানার্জী স্থানীয় বাসিন্দা। বিপদে আপদে তাকে পাওয়া যাবে। স্থানীয়রা তাপস ব্যানার্জীকে চাইছেন – এলাকায় কান পাতলে এটা শোনা যাচ্ছে।
একটি শিল্পাঞ্চল প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় আসানসোল দক্ষিণের ভোটাররা কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। বিরোধীদের দাবি, বিধায়ক তহবিলের টাকা সঠিক ব্যবহারের অভাব এবং এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনায় অগ্নিমিত্রা পাল অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। মানুষের এই ক্ষোভকে হাতিয়ার করেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারের ময়দানে নেমেছে।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অগ্নিমিত্রা পালের জয়ের সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। কারণ এলাকায় বিজেপির ভোটব্যাংক এবং মেরুকরণের রাজনীতি। তবে মানুষের মনে তার প্রতি যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তাতে তার জয়ের পথ অত্যন্ত পিচ্ছিল হতে পারে।
ভোটাররা গত পাঁচ বছরের কাজের খতিয়ান বিচার করবেন নাকি রাজনৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে ভোট দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে অগ্নিমিত্রা পালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ক্ষোভের আগুন প্রশমিত করে তিনি আবারও বিধানসভায় ফিরতে পারেন কি না, তার উত্তর মিলবে ইভিএম বাক্স খুললে।


















