eaibanglai
Homeএই বাংলায়প্রথম দফায় ৯০% শতাংশের বেশি ভোট, অথচ ভোট দিতে পারলেন না...

প্রথম দফায় ৯০% শতাংশের বেশি ভোট, অথচ ভোট দিতে পারলেন না কয়েকশো “ভিএবি”

সন্তোষকুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- নির্বাচন কমিশন যখন ৯০শতাংশের বেশি ভোট পড়ার জন্য রাজ্যবাসীকে স্যালুট জানাচ্ছে তখন একেবারে একটি অন্য ছবিও উঠে এসেছে। যেখানে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতেতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কয়েকশো “ভিএবি” কর্মী ভোটই দিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রসঙ্গত একদিনের নোটিশে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কয়েকশো “ভোটার এ্যাসিসটেন্ট বুথ” কর্মীকে ডাকা হয় ভোটের কাজে। অভিযোগ ভোটের কাজ করতে গিয়ে ভোটই দিতে পারেন নি এই কয়েকশো কর্মী। ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এই কর্মীরা।

জানা গেছে, একদিনের নোটিশে কোন রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই ” ভোটার এ্যাসিসটেন্ট বুথ ” হিসাবে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের। এদের মধ্যে অনেকেই স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো পশ্চিম বর্ধমানের ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিস থেকে ভোটার এ্যাসিসটেন্ট বুথের একটা তালিকা হেড অফ দ্যা ইন্সটিটিউশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, কর্মীরা যেন বুধবার সকালে ডিসিআরসি বা বুথে পৌঁছে যায়। তারপর সেখান থেকে ওই কর্মীদের পরিচয় পত্র দেওয়া হয়। তবে সেই পরিচয় পত্রের নিচে লেখা ছিল, এই পরিচয় পত্র ভোট দেওয়ার পরিচয় পত্র হিসেবে গ্রাহ্য হবে না।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পশ্চিম বর্ধমানে এই ভিএবি কর্মীর সংখ্যা প্রায় তিনশোর মতো। অভিযোগ, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানোর পরে অনেকেই টাকা পাননি। কাউকে ৫৬০ টাকা, কাউকে আবার ২৬০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আরো অভিযোগ, তাদেরকে সিভিক পুলিশর মতো প্রচন্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে। অনেক বুথে ” ভিএবি” দের নাকি বসার জায়গাও ছিলো না। এই কর্মীদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষও ছিলেন, যাদের বয়স প্রায় ৬০ ছুঁই ছুঁই। শুক্রবার সকালে তারা বাড়িতে ফিরেছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল ” ভোটার এ্যাসিস্টেন্ট বুথ ” কর্মীরা বৃহস্পতিবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি। অভিযোগ, বুথের দায়িত্বে থাকা সেক্টর অফিসার ও বিএলওর কাছে তদবির করেও, তারা ভোট দিতে পারেননি । কাউকে ভোট দেবার কোনরকম সুযোগ দেওয়া হয়নি বা টেন্ডার ব্যালট প্রদান করা হয়নি।

এই ” ভিএবি” র কাজে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে ছিলেন আসানসোল ইস্টার্ন রেলওয়ে বয়েজ হাইস্কুলের শিক্ষক সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্রর স্ত্রীও। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী সহ প্রচুর রেল কর্মীকে রাতারাতি প্রায় বাড়ি থেকে একপ্রকার উঠিয়ে ভিএবি হিসাবে বীরভূম, বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল। ৪০/৪৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় প্রত্যন্ত গ্রামে গত দুদিন রোদে তারা তাদের ভোটের ডিউটি পালন করেন। অথচ তাদের কাউকেই ভোট দেওয়ার ন্যূনতম সুযোগ টুকু দেওয়া হয়নি। আরো একটি নির্মম বিষয় অনেকেই একটা টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ তাদের দুরদূরান্তে এই গরমে রোদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।”

পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের তরফে বলা হয়েছে, এই দায়িত্ব তারা নেবে না। একই কথা বলা হয়েছে, অন্য সরকারি দপ্তরের তরফেও। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এর দায় কে নেবে? এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটে কাজে যোগ দেওয়া এই সরকারি কর্মচারীরা।

জানা গেছে, বিশ্বনাথবাবু গোটা বিষয়টি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারকে মেইল করে অভিযোগ জানিয়েছেন। এই ভুক্তভোগী ও বঞ্চিত সরকারি কর্মীরা নতুন করে তাদের ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জিনিয়েছেন। এর পাশাপাশি যারা এই অব্যবস্থার জন্য দায়ী তাদের শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন। যদিও এই পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments