সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- রাজ্যে পালা বদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই অবৈধ টোল আদায় বন্ধ হয়ে গেছে। অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের উদ্যোগে পঞ্চায়েত সমিতির নামে এই টোল ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছিল। এমনই ঘটনা সামনে এসেছে দুর্গাপুর-ফরিদপুর এলাকায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
অভিযোগ, বছরের পর বছর বেআইনিভাবে টোল আদায় চলেছে দুর্গাপুর-ফরিদপুরের ধবনী এলাকায়। চারচাকা গাড়ি পিছু ২০ টাকা এবং বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বা তারও বেশি টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় সাত-আট বছর আগে একবার টেন্ডার হলেও পরে আর নতুন করে কোনও টেন্ডার করা হয়নি। গত ৪ তারিখে রাজ্যে বিজেপির জয়ের পর আচমকাই ওই টোল আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে টোল আদায়ের বৈধতা নিয়ে। যে রাস্তায় টোল নেওয়া হতো, সেটি পূর্ত দপ্তরের অধীন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পঞ্চায়েত সমিতি কীভাবে সেখানে টোল আদায়ের অনুমতি দিল, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতার দাবি, “টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া হতো এবং জোরজবরদস্তি করে টোল আদায় চলত। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হতো। আদায় হওয়া টাকার বড় অংশই নেতাদের পকেটে যেত বলেও অভিযোগ।”
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদীপ চট্ট্যোপাধ্যায় বলেন, “ এতোদিন ধরে তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে তোলা আদায় করে এসেছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ কাজকর্ম বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়ার পর তৃণমূল নেতারা ভয়ে পালিয়েছে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুর্গাপুর-ফরিদপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যাণ শ মণ্ডল। তাঁর দাবি, “টোলটি পঞ্চায়েত সমিতির অধীনেই ছিল। ৩১ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে সরকারি অনুমতি নিয়ে কিছুদিন চালানো হলেও ৪ তারিখের পর থেকে তা বন্ধ রয়েছে। নতুন করে টেন্ডার হবে কি না, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত ৪ তারিখের পর ধবনীর পাশাপাশি একইভাবে হেতেডোবা ও সরপি এলাকায় চলা আরও দুটি টোল ট্যাক্সও বন্ধ হয়ে গিয়েছে জানা গেছে।


















