এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

খনির নিচে আগুন, বন্ধের মুখে অন্ডালের নাগ কাজোড়া কোলিয়ারি

By Eaibanglai - August 31, 2026
— Advertisement —
Advertisement
খনির নিচে আগুন, বন্ধের মুখে অন্ডালের নাগ কাজোড়া কোলিয়ারি

সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- খনির গভীরে বিষাক্ত গ্যাস ও ভয়াবহ আগুনের উপস্থিতি মেলায় সাময়িকভাবে বন্ধের মুখে ইসিএল-এর বাঁকলা এরিয়ার খান্দরা কোলিয়ারির অধীনস্থ নাগ কাজোড়া (NKJ) ইউনিট কোলিয়ারি । গত শনিবার রাতে খনির নিচে হঠাৎ করেই আগুনের ফুলকি ও ধোঁয়া লক্ষ্য করা যায়। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই খনি গর্ভে কর্মরত সমস্ত শ্রমিককে তৎক্ষণাৎ এবং অক্ষত অবস্থায় ওপরে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে । তবে এই ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ইসিএল কর্তৃপক্ষ খনিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। আর এই সিদ্ধান্তের জেরে নিজেদের রুজি-রুটি হারানোর আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন খনিতে কর্মরত প্রায় ৩০০ জন খনি কর্মী।

কোলিয়ারি সূত্রের খবর, শনিবার রাতে ভূগর্ভস্থ খনির কয়েকটি সুনির্দিষ্ট জায়গায় প্রথম গ্যাস ও আগুনের উপস্থিতি টের পান শ্রমিক ও আধিকারিকরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে খনি খালি করে দেওয়া হয়। এরপর রবিবারই কোলিয়ারির ভবিষ্যৎ এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাঁচাতে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন মিলে এক জরুরি যৌথ আলোচনায় বসে। এই বৈঠকে উপস্থিত কোলিয়ারির এজেন্ট এম সিং জানান, এই মুহূর্তে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই কোলিয়ারিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ম্যানেজমেন্ট হাত গুটিয়ে বসে নেই; দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে এবং খনিটিকে পুনরায় উৎপাদনক্ষম বা পুনর্জীবিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

যদিও কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। সিআইটিইউ  নেতা আহমেদ খাঁন এই সংকটের জন্য সরাসরি কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজমেন্টের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আজ কোলিয়ারির এই ভয়াবহ অবস্থার জন্য সম্পূর্ণরূপে ম্যানেজমেন্ট দায়ী। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি— কেন হঠাৎ কোলিয়ারিটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে? ঠিক কতদিনের মধ্যে খনির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে? এবং সবচেয়ে বড় কথা, এই খনির শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী?"

শ্রমিক নেতা আহমেদ খাঁন আরও সাফ জানিয়ে দেন যে, এই কোলিয়ারিতে কর্মরত কোনো শ্রমিককে অন্য কোথাও বদলি বা ট্রান্সফার করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। খনি সচল রাখা এবং শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় যদি দ্রুত সদর্থক পদক্ষেপ না করা হয়, তবে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন একজোট হয়ে আগামী দিনে মহকুমা জুড়ে বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে অন্ডালের ওই খনি অঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

 

 

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement