সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর মূর্তি উপড়ে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাখিবন্ধন উৎসবের জায়গা ফাঁকা করার অজুহাতে এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জাতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে মহকুমা জুড়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাইমারি স্কুলের পাশে একটি মেডিটেশন সেন্টার রয়েছে। সেই সেন্টারের সামনেই সসম্মানে বসানো ছিল পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর একটি মূর্তি। অভিযোগ উঠেছে, গত শুক্রবার এলাকায় একটি রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানের জন্য বাড়তি জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় আয়োজকরা একটি ক্রেন নিয়ে এসে নেহেরুর মূর্তিটি উপড়ে ফেলে এবং তা পাশের জঙ্গলাকীর্ণ ঝোপঝাড়ের মধ্যে ফেলে দেয়।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে জেলা কংগ্রেস। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মূর্তির সঙ্গে এমন অবমাননাকর আচরণ কেন করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, “নেহেরুজির মূর্তি ক্রেন দিয়ে উপড়ে এভাবে জঙ্গলে ফেলে রাখা চরম অপমানজনক। অথচ সেখানে পরে রাখিবন্ধনের অনুষ্ঠান করা হলো, যে অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক নিজেও উপস্থিত ছিলেন। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই অপমান আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কংগ্রেস বড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”
অন্যদিকে, এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকা দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকেই আঙুল তুলেছেন। পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, “কংগ্রেসের দুটো গোষ্ঠী রয়েছে। তার মধ্যে একটা গোষ্ঠী গোপনে চোর তৃণমূলে যোগ দিয়েছে এবং সেই গোষ্ঠীই জওহরলাল নেহেরুর মূর্তি ফেলে দিয়েছে। আর এখন তার প্রতিবাদে নাটকীয় বিক্ষোভ দেখিয়ে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করছে কংগ্রেস।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ যখন বেশ কিছু ইউনিয়ন অফিস ভাঙছিল, তখন তার হস্তক্ষেপেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মূর্তিটি রক্ষা পেয়েছিল। নেহেরুর মূর্তি সরানোর পেছনে বিজেপির কোনো হাত নেই দাবি করে তিনি প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।