নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী হিসেবে, মণিপাল হাসপাতাল ভারতের শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে একটি, যা বার্ষিক ৮০ লক্ষেরও বেশি রোগীকে সেবা প্রদান করে, সাশ্রয়ী মূল্যের, উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। মণিপালের সমন্বিত নেটওয়ার্কের বর্তমানে ভারতের ২৪টি শহরে ৪৯টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে ১২,৬০০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত শয্যা রয়েছে, ১১,০০০+ ডাক্তারের একটি প্রতিভাবান দল এবং ৩৪,০০০-এরও বেশি কর্মচারী রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য রোগীর জন্য ব্যাপক নিরাময়মূলক এবং প্রতিরোধমূলক সেবা প্রদান করে। মণিপাল হাসপাতাল AAHRPP দ্বারা স্বীকৃত এবং এর বেশিরভাগ হাসপাতাল হল NABI, NAHL, ER ব্লাড ব্যাংক, যারা নার্সিং এক্সিলেন্সের জন্য স্বীকৃত এবং স্বীকৃত।
পূর্ব ভারতে গাইনোকোলজিক ক্যান্সার, জটিন প্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ এবং হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের প্রেক্ষিতে, মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস আজ দুর্গাপুরে তাদের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্বেষণা মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া-র আওতায় একটি ইন্টার্যাকটিক সচেতনতা অধিবেশন আয়োজন করে। এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের ডা. অরুণাভ রায়, বিভাগীয় প্রথান ও সিনিয়র কনসালটান্ট গাইনোকোণজিক অনকোলজি, ডা. সুমন্ত দে, সিনিয়র কনসালটরন্ট ও বিভাগীয় প্রধান-রোবোটিক, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক ও খাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি; এবং ডা. অশেষ হালদার, কননালাটনান্ট কার্ডিয়োলজি। তাঁরা অঞ্চলে নারী ক্যান্সার, জটিল সার্জিক্যাল রোগ এবং হৃদরোগের বাড়তে থাকা বোঝা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
চিকিৎসকেরা রোগের পরিবর্তিত ধরণ, জীবনযাপন জনিত ঝুঁকি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব এবং মিনিমানি ইনভেসিত গাইনোকোলজিক অনকোলজি, রোবোটিক ও ল্যাপারোস্কোপিক জিআই সার্জারি, ব্যারিয়াট্রিক প্রক্রিয়া এবং আধুনিক কার্ডিয়াক কেয়ারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। সময়মতো চিকিৎসা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি দক্ষতা এবং উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতা কীভাবে রোগীর সুস্থতা ও জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে, যে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্কৃত শব্দ ‘অন্বেষণা-যার অর্থ অনুসন্ধান ও আবিষ্কার থেকে অনুপ্রাণিত এই উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতালের বৌধ শিক্ষণ, দায়িত্বশীল স্বাস্থ্য যোগাযোগ এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এর আগে তামলুক, এইবি, বর্ধমান, জামশেদপুর, আইজল, মালদা, দার্জিলিং, বোলপুর, বারুইপুর ও হাওড়ায় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এবার দুর্গাপুরে এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন বিভাগের জটিল চিকিৎসা বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরেন এবং প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সহায়তা করেন। এসব উদ্যোগ একত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
গাইনোকোলজিক ক্যান্সার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডা. অরুন্যত রায় বলেন, “সার্ভিক্স, ডিম্বাশয়, জরায়ু এবং অন্যান্য গাইনোকোলজিক ক্যান্সার এখনও নারীদের জনষ একটি বড় স্বাস্থ্যগত সালেঞ্জ, যার অন্যতম কারণ দেরিতে রোগ নির্ণয় ও সচেতনতার অভাব। নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হয় এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আমাদের হাসপাভাবে পাইনোকোলজিক অনকোলজি বিভাগে উন্নত ডায়াগনস্টিক, মিনিমালি ইনভেসিজ ও ফার্টিলিটি সংরক্ষণকারী সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি পদ্ধতির সমন্বয়ে প্রতিটি রোগীর জন্য ব্যক্তিগত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।”
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারির অগ্রগতি তুলে ধরে ডা. সুমন্ত দে বলেন, ‘নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে। জটিল পেটের রোগ, স্থূলতা সংক্রান্ত সমস্যা এবং জিআই রোগ দ্রুত বাড়ছে। রোবোটিক ও উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি রোগীসেবায় বিপ্লব এনেছে-যার ফলে আরও নিখুঁত অপারেশন, কম ব্যথা, কম সময়ে হাসপাতাল ছাড়া এবং দ্রুত আরোগ্য সম্ভব হচ্ছে। মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে আমরা হার্নিয়া, কোলোরেক্টাল রোগ, জিআই ক্যান্সার, ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি ও অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশনের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সার্জিকঞ্জল টিমের সহায়তায় সমগ্র চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করি।”
হৃদরোগ চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. অশেষ হালদার, বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগ এখনও অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, যা ক্রমশ কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎস্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের কার্ডিয়োলজি বিভাগে উন্নত ভায়াগনস্টিক ও অত্যাধুনিক ইন্টারভেনশনাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রদান করা হয়। উপকার্থেটার বাপটিক জলভ রিপ্লেসমেন্ট (TAVR), জটিল করোনারি ইন্টারভেনশন এবং অন্যান্য উন্নত মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সার্জারির ঝুঁকি কমে, দ্রুত সুস্থতা আসে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত হয়। দ্রোণীকেন্দ্রিক ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি পদ্ধতির মাধ্যমে নীর্ঘমেয়াদি অস্বাস্থ্য ও উন্নত চিকিৎসা ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।”



















