সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- নিম্নচাপের লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে এবার স্কুল প্রাঙ্গণে দেখা দিল বিশাল ধস। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার হরিপুর এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের একটানা প্রবল বর্ষণের জেরে মঙ্গলবার সকালে আচমকাই বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল রান্নার ঘরের ঠিক পাশেই একটি বিশাল অংশ জুড়ে ধস নামে। চোখের নিমেষে মাটি বসে গিয়ে এক বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় স্কুলে পড়ুয়ারা উপস্থিত থাকলেও, সৌভাগ্যবশত এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা কেউ আহত হয়নি। তবে যেভাবে রান্নার ঘরের গা ঘেঁষে এই ধস নেমেছে, তাতে যেকোনো সময় বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এই সরকারি স্কুলটিতে মোট ৫২৮ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে, যাদের অধিকাংশই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এই প্রথম নয়, এর আগে ২০২৩ সালেও এই বিদ্যালয় চত্বরে একই রকম ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ইসিএল -এর কেন্দ্রা এরিয়া কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের ভবনটি অন্য কোনো নিরাপদ জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়ার এবং নতুন স্কুল গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, গত তিন বছরেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।
মঙ্গলবারের এই ঘটনার পর ইসিএল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, খনি অঞ্চলের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও প্রশাসন ও ইসিএল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। গরিব ঘরের সন্তানদের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
আপাতত ধসাক্রান্ত অংশটিকে ঘিরে রাখা হলেও স্কুল চত্বরে ক্লাস চালানো কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে এই বিদ্যালয়টিকে অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন দিয়ে নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের কাছে জোরদার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।