সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এসআইআর-এর কাজ সম্পূর্ণ হলেই নির্বাচণ কমিশন নির্বাচণের ঘোষণা করবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে রাজ্যের শাসক বিরোধী সব রাজ্যনৈতিক দলই দলয়ী সংগঠন মজবুত করতে মাঠে নেমে পড়েছে। এরই মধ্যে আসানসোল -বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে দলীয় নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিজেপির জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের ডাকে আসানসোলের শীতলায় ১৯ নং জাতীয় সড়ক লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ে বারাবনি মণ্ডল–৪ র সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। অভিযোগ, তখন হঠাৎ সেখানে দলের সংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ রায় তার দলবল নিয়ে জোর করে বৈঠকে ঢুকে পড়েন। প্রকাশ্যেই হামলা চালান বলে অভিযোগ। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ অধিকারী সহ আরও কয়েকজন।
ঘটনার পর আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন আক্রান্তরা। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দাবি জানান তারা। এখানে দু’পক্ষই বিজেপির হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে মানতে নারাজ দলেরই একাংশ। তাদের বক্তব্য, এর আগেও অভিযুক্ত অরিজিৎ রায় একাধিকবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং সাংগঠনিক বৈঠকে দাপট দেখিয়েছে। এলাকার অনেক কর্মীই অভিযোগ, মতের অমিল হলেই দাপট দেখানোটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।তাদের দাবি বারবার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও দল অরিজিৎ রায়ের মতো ‘প্রভাবশালী’ নেতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেই আজ তার এতো বাড়বাড়ন্ত।
এদিকে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বারাবনির ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অসিত সিংহ বলেন, বিজেপির গোটা দলটাই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। পরিবর্তনের ডাক দেওয়া দলটির অফিসেই যদি কর্মীদের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে তারা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবে কী করে?
এদিকে নির্বাচনের আগে বিজেপির এই গোষ্ঠী কোন্দল যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বকে।


















