সংবাদদাতা,আসানসোল,দুর্গাপুর,বাঁকুড়াঃ– তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের সল্টলেকের অফিস এবং বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ রাজ্য ছাড়িয়ে রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেচে। এদিকে
আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডির অভিযানের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কর্মীরা। চলছে বিক্ষোভ প্রতিবাদ। আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চেও তার প্রভাব পড়ল। ইডি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আসানসোল ও দুর্গাপুর দুই শহরেরই পথে নেমে সরব হন শাসক দলের নেতা কর্মীরা। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া জেলাতেও চলে জাতীয় সরক অবরোধ করে প্রতিবাদ।
এদিন আসানসোল পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ সদস্য ইন্দ্রিণী মিশ্র ও কুলটির ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের উপস্থিতিতে কুলটিতে ১৯ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে তারা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ফলে আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে কুলটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ইন্দ্রাণী দেবী সহ অন্যান্যদের অভিযোগ করেন, সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপি নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। এতে তাদের কোনো লাভ হবেনা।
অপরদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিধায়ক তাপস ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা রানীগঞ্জ শহরে মিছিল করে। কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিধায়ক বলেন, ‘সার’ এ সফল না হতে পেরে বিজেপি এখন ইডি ও সিবিআই এর মত কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এতেও তাদের লাভ হবেনা। রাজ্যের মানুষ ইভিএমে এই অপমানের যোগ্য জবাব দেবে।
আসানসোলের পাশাপাশি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলেও পথে নেমে সরব হন তৃণমূল নেতা কর্মী সমর্থকরা। এদিন বিকেলে দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা। এখানে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার উপস্থিতিতে চলে বিক্ষোভ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিজেপি বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন দলের নেতা কর্মীরা।
মন্ত্রী বলেন, এসআইআর করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে লাভ হয়নি বলেই এবার ইডি-সিবিআই নামানো হয়েছে। আইপ্যাকের অফিস ও প্রধানের বাড়ি থেকে নথি চুরির চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু এইভাবে বাংলা দখল করা যাবে না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ তার জবাব দেবে। তিনি আরো বলেন, এর আগে বিজেপি বাংলার উন্নয়নমূলক একাধিক প্রকল্প চুরি করে নিজেদের রাজ্যে চালু করেছিলো। কিন্তু সফল হয়নি। সব মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই এবার বিজেপি আমাদের দলের ভোট স্ট্র্যাটেজি ও রণকৌশল চুরি করানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে।
শিল্পাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া জেলাতেও প্রতিবাদে সরব হয় শাসক দল। এদিন বিকেলে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির দুর্লভপুর মোড়ে প্রতিবাদ মিছিল করে শাসক দলের নেতা কর্মীরা। পরে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখায়। পাশাপাশি শালতোড়া বাজারে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিতহয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে বিজেপি হানাদারি চলছে বলে দাবি করেন স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বরা।


















