eaibanglai
Homeএই বাংলায়সেল আইএসপি স্কুল নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষোভ

সেল আইএসপি স্কুল নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- সম্প্রতি বার্নপুরের ইস্কো পরিচালিত পাঁচটি স্কুলের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্কুল পরিচালনার জন্য বেসরকারি সংস্থার কাছে টেন্ডারও আহ্বান করেছে ইস্কো। যার বিরোধীতায় সরব হয়েছে স্কুলের পড়ুয়া থেকে অভিভাবক ও এলাকার মানুষ। অন্যদিকে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন আসানসোল পুরনিগমের ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমুল কংগ্রেসের কাউন্সিলার অশোক রুদ্র। এরই মধ্যে ইস্কো পরিচালিত স্কুলগুলির বেসরকারিকরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারে মন্তব্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্য়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসানসোলে এসে দলের জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে ইস্কো পরিচালিত স্কুলগুলির বেসরকারিকরণ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “স্কুল চালানো সেল আইএসপির কাজ নয়। আমি যতদূর জানি ইস্কো কারখানার কাজ ইস্পাত তৈরি করা।” এর পাশাপাশি বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূলের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওদের তো আর কোন কাজ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বাংলার শিক্ষার হাল কি অবস্থা হয়েছে, তা কারোর অজানা নয়। ৮ হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে।”

এদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ইস্পাত নগরী বার্নপুরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত আইএসপি পরিচালিত পাঁচটি স্কুল- বার্নপুর বয়েজ প্রাথমিক ও হাইস্কুল , বার্নপুর গার্লস প্রাথমিক ও হাইস্কুল এবং কিশলয় প্রাইমারি স্কুল বেসরকারীকরণের কারণে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে টেন্ডার। জানা গিয়েছে, বার্নপুর বয়েজ হাইস্কুলে সাতশোর বেশি পড়ুয়া রয়েছে। গার্লস হাইস্কুলেও প্রায় ৬০০ পড়ুয়া রয়েছে। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে যথেষ্টই পড়ুয়া রয়েছে। প্রায় দু’হাজার পড়ুয়া থাকা এইসব স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, বেসরকারি সংস্থা স্কুলগুলি হাতে নিলেই ফি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। যা তাঁদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না। দুঃস্থ পরিবারের পড়ুয়ারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত পড়ুয়াদের কোনও ফি দিতে হয় না। ইস্কোর স্থায়ী কর্মীদের সন্তানদের স্কুল ফি মুকুব। পাশাপাশি অস্থায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুল ফি বছরে মাত্র ৩০টাকা। ইস্কোর শ্রমিক না হলে বছরে মাত্র ৭২০টাকা দিতে হয়। এই ফি এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও পড়ুয়ারা।

এদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন স্কুল বেসরকারিকরণের বিরোধিতায় প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনে থাকা কাউন্সিলর অশোক রুদ্র। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সেল আইএসপি এই স্কুলগুলি পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করে সেগুলিকে বেসরকারিকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ছাত্র ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে বিজেপি মানুষের স্বার্থের কথা ভাবে না। তারা শুধু লাভের কথাই চিন্তা করে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি স্কুল চালানো সেল আইএসপির দায়িত্ব না হয়, তাহলে এত বছর ধরে কেন এই স্কুলগুলি চালানো হচ্ছিল?” পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও রেলের পক্ষ থেকে আসানসোলের রেল পরিচালিত স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন আন্দোলনের জেরে রেল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় এবং স্কুলগুলি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি ৩৫হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে ইস্কোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বিপুল সংখ্যক ঠিকা শ্রমিক প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের সন্তানরা এই এলাকায় আসবে। তা সত্ত্বেও বেসরকারি হাতে স্কুলগুলি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন অনেকে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments