eaibanglai
Homeএই বাংলায়আজও পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি, অসহায় পরিবার

আজও পূরণ হয়নি প্রতিশ্রুতি, অসহায় পরিবার

সংবাদদাতা, আসানসোলঃ- দিন যায়, মাস যায়, এমনকি বছরও পেরিয়ে যায়। ওদিকে দরজার সামনে করুণ দৃষ্টিতে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ওদের আসার প্রতীক্ষায় বসে থাকেন অসহায় পরিবার। কিন্তু আজও এসে পৌঁছায়নি সরকারি প্রতিশ্রুতির চেক। সেদিন সমস্ত রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছিল সেই বাড়িটি। মিডিয়ার সামনে মিলেছিল অনেক প্রতিশ্রুতি। আজ আর কেউ আসেনা। সেদিনের দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে কীভাবে ওদের দিন চলছে সেই খোঁজ রাখার প্রয়োজন কেউ মনে করেনা।

গত বছর উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত হয় মহাকুম্ভ মেলা। প্রচারের দৌলতে সবাই জানতে পারে ১৪৪ বছর পর এই মহাকুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদের মত ইতিহাসের পাতায় নাম তুলতে কুম্ভে গিয়ে জামুরিয়ার কেন্দা গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ রুইদাস ফিরে আসেন ‘লাশ’ হয়ে। সেদিন প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভের মৌনী অমাবস্যার পবিত্র স্নানের ঘটে অনেকের সঙ্গে পদপৃষ্ঠ হয়ে মারা যান বিনোদ। দুঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ সরকার মৃত পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। ঘোষণার প্রায় তিন মাস পরে বিনোদের পরিবারের হাতে এসে পৌঁছায় মাত্র ৫ লক্ষ টাকা এবং বাকি অর্থ কিস্তিতে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। সেটা নিয়েও একটা বিতর্ক দেখা যায়। একবছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই অর্থ এসে পৌঁছায়নি অসহায় পরিবারের হাতে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব মুখে তালা লাগিয়ে বসে আছে। মৃত বিনোদের অসহায় বিধবা স্ত্রী শর্মিলা দেবী কাতর সুরে বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও আজও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি এবং তিন সন্তানকে নিয়ে কীভাবে দিন কাটছে সেই খবর কেউ রাখেনা। সরকারের দেওয়া বিনামূল্যে রেশনের চাল, এমআইসির ৩০০০ টাকা এবং লক্ষ্মী ভান্ডারের স্বল্প অর্থে দূর্মূল্যের বাজারে সংসার চালানো রীতিমত কঠিন হয়ে পড়েছে। কীভাবেই বা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোটাবো! এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ির দুয়ারে বসে চোখের জল ফেলতে থাকেন শর্মিলা দেবী। হয়তো ভাবেন, একটা অসহায় পরিবারের সঙ্গে এইভাবে কি রসিকতা করা ভাল!

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments