সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করে মেডিকেল স্টোরের দোকানদারের দেওয়া ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত গৃহবধূর। ঘটনায় চাঞ্চল্য আসানসোলের সালানপুর থানার জেমারি এলাকায়।
জানা গেছে, সালানপুর থানার জেমারি শিরিষবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা বছর ১৯ র চায়না মাহাতো অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দিন তিনেক আগে তিনি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় পরিবারের সদস্যরা তাকে স্থানীয় চিকিৎসক এ.পি. চৌধুরির কাছে নিয়ে যান। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ডোজের গা, হাতপা ব্যথা কমার একটি ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জেমারি রেলগেট সংলগ্ন পাল মেডিকেলে ওষুধ কেনেন। অভিযোগ, সেখানেই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। দোকান মালিক বিনয় পাল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে লেখা পরামর্শ অগ্রাহ্য করে ‘হাইডোজের’ ১০০ পাওয়ারের বদলে ২০০ পাওয়ারে ওষুধ দেন। গৃহবধূর শাশুড়ি প্রমিলা মাহাতো জানান, সেই ওষুধ খাওয়ার পরই চায়না মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি ফের তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক সবকিছু পরীক্ষা করে জানান নির্ধারিত ডোজের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ডোজের ওষুধ খেয়েই বিপত্তি হয়েছে। কারণ হাই ডোজের ওই ওষুধ অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে পিঠাকেয়ারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা গৃহবধূকে পরীক্ষা করে জানান, তার গর্ভপাত হয়ে গেছে।
অন্যদিকে গৃহবধূর গর্ভপাতের খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা ওই ওষুধের দোকানের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা জানান যদি দোকান মালিক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতেন যে প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা ওষুধ তার দোকানে নেই তাহলে তারা অন্য কোন দোকান থেকে ওষুধ কিনতেন। তাহলে অন্তত এত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে যেতেন গৃহবধূ। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি ওই দোকানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দোকান মালিক নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ দিয়ে আসছেন। এর আগেও অনেক অভিযোগ উঠলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যদিও অভিযুক্ত দোকান মালিক তার বিরুদ্ধে উঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই ১০০ পাওয়ারের বদলে ২০০ পাওয়ারের ওষুধ দিয়েছিলেন। দুবারের বদলে একবার ওই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে দোকানে বিক্ষোভের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছয় ও বিক্ষোভকারী ও দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পাশাপাশি গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে অভিযোগ দায়ের হলে তার ভিত্তিতে তদন্ত হবে।



















