সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শীর্ষ আদালতের রায়ে চাকরি খোয়াতে চলেছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষা সেল, জেলা শিক্ষা দপ্তর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় চাকরি যাওয়ার সংখ্যাটা পাঁচশোরও বেশী (কমবেশি ৫১৭ জন)।
জেলার আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, বারাবনি বিধানসভার সালানপুর, বারাবনি ও রেল শহর চিত্তরঞ্জনের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের নাম এই তালিকায় আছে। তবে, এই চাকরি বাতিলের তালিকায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জের বাসন্তীদেবী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম সবার উপরে রয়েছে। এই স্কুলের ২৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকার মধ্যে ১২ জনের নাম চাকরি বাতিল তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে হিন্দি, বাংলা, ভৌত বিজ্ঞান ও জীবন বিঞ্জানের মতো বিষয় আছে। স্বাভাবিক ভাবেই মাথায় হাত স্কুল কর্তৃপক্ষের। ২৭ জনের মধ্যে যদি ১২ জন না থাকেন, তাহলে স্কুল চালাবো কি করে? যেখানে পড়ুয়াদের সংখ্যা ১৪২৯ জন। প্রশ্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রুতি গাঙ্গুলির। তিনি বলেন, “এই ১২ জনকে দেখে সত্যি আমাদের কারোরই মনে হয়নি, এরা অযোগ্য। সবাই সুন্দর ভাবে পড়াশোনা করান। কারোর নামে কোন অভিযোগ নেই। কেউ কেউ আবার নোডাল শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।”
চাকরিহারাদের তালিকায় রয়েছে বারাবনির গৌরান্ডি আর কে এস ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ জন, সালানপুর ব্লকের কস্তুরবা গান্ধী হিন্দি মিডিয়াম স্কুলের ১ জন, চিত্তরঞ্জন বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষকের নাম। আসানসোল শহরের এসবি গরাই রোডের চেলিডাঙ্গা হাইস্কুলের দুজন শিক্ষক ও শিক্ষিকা ও এক অশিক্ষক কর্মীর নাম এই তালিকায় আছে। স্কুলের টিচার ইনচার্জ পূর্ণচন্দ্র ঘোষ বলেন,”আমার স্কুলের তিনজনের নাম রয়েছে। কি করবো বুঝতে পারছি না।”
আসানসোল শহরের উমারানি গড়াই মহিলা কল্যাণ হাইস্কুলের দুই শিক্ষিকা ও একজন অশিক্ষক কর্মীর নাম রয়েছে চাকরি বাতিলের তালিকায়। এই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক ডঃ তুষার বন্দোপাধ্যায় বলেন, “মহামান্য উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে আমি কিছু বলছি না। তবে আমার স্কুলের উপরে অনেকটা চাপ পড়ল। যেখানে ২৬০০ এর বেশি ছাত্র ছাত্রী রয়েছে, আর শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন ৩৯ জন। এমনিতেই ১৪ জন শিক্ষকের অভাব। তার ওপর আরো ৪ জন বাদ গেল। এখন সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ালো মোট ১৮ জন। যার ফলে স্কুলের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।”
শীর্ষ আদালতের এই রায়ে শুধু শিক্ষক শিক্ষিকারাই ভেঙে পড়েছেন তা নয় ছাত্র ছাত্রীরাও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষের। তার সঙ্গে শিক্ষকদের অভাবে পড়াশুনায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি স্কুলগুলির কর্তৃপক্ষের। কারণ এই চাকরিহারাদের অনেকেই নবম-দশম, বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন, নির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ( শিক্ষা) সঞ্জয় পাল বলেন, এখনো পুরো তালিকা পাইনি। আশা করছি, তাড়াতাড়ি তা পাবো। তার পরেই কিছু বলতে পারবো।





