নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:- স্নেহময় পুলিশের রাজত্বে ফের নির্মম ভাবে আক্রান্ত মহিলা। এবারে এক অন্তঃসত্ত্বা আইনজীবী। তাকে রাস্তায় ফেলে পেটে লাথি মেরে রক্তাক্ত করে পালিয়ে গেলো এক পুলিশের ভাই, আর অভিযুক্তকে বাঁচাতে অভিযোগ নিতেই চাইলনা স্নেহময় পুলিশ।
এই স্নেহময় নিজেই বাম জমানায় ২০০৯ সালে দুর্গাপুরের মেন গেটে তৃণমুল কংগ্রেস সদস্য কৃষ্ণা ঘুঘুকে নৃশংস ভাবে লাঠিপেটা করে আদালতের কড়া ধমক খেয়েছিল।
সেই স্নেহময় চক্রবর্তীই এখন বর্ধমান থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি। সেখানেই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আইনজীবীর ওপর আক্রমণের পরেও অভিযুক্ত যুবক কেন অধরা – তা নিয়ে বুধবার ধর্মঘটের পথে আইনজীবীরা। মঙ্গলবার তারা এই মর্মে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়ে ধর্মঘটের কথা জানিয়েও দেন।
গত ১৫ মার্চ বর্ধমান শহরের বিগবাজার এলাকায় এক মহিলা অন্তঃস্বত্ত্বা আইনজীবীকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে মারধর করার ঘটনায় এবং পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুধবার বর্ধমান আদালতের আইনজীবী মহল পেন ডাউনের সিদ্ধান্ত নিল। বর্ধমান বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরূপ দাস জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তারা গোটা ঘটনার কথা উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার সহ রাজ্য বার কাউন্সিল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইন), ভারতীয় বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সহ সমস্ত দপ্তরে জানিয়েছেন। অরূপবাবু জানিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ইতিবাচক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে অনির্দিষ্টকালের দিকে নিয়ে যেতে তাঁরা বাধ্য হবেন।
অরূপ বিস্তারে জানিয়েছেন, গত ১৫ মার্চ বর্ধমান আদালতের আইনজীবী রিয়া সরকার তার স্বামী এবং আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে বিগবাজার এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বাইক তাদের ধাক্কা মারলে তাঁরা ওই বাইক আরোহীকে সাবধানে গাড়ি চালানোর জন্য বলেন। এই সময় সেখানে আরও একজন যুবক মোটর বাইক নিয়ে হাজির হন। এরপর ওই যুবক তাঁকে আচমকাই আক্রমণ করে। রাস্তায় ফেলে তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। তাকে আটকাতে গেলে তার স্বামী এবং অন্যান্য আত্মীয়দের ওপরও বেপরোয়া হামলা চালানো হয়। রিয়া সরকার অভিযোগে জানিয়েছেন, এই অবস্থায় তারা বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। কোনো অভিযোগই নেওয়া হয়নি।
রিয়া বলেন, “থানা থেকে বলা হয় হাসপাতালে গিয়ে চিকিত্সা করিয়ে আসতে। এরপর বর্ধমান হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে বলা হয় থানা থেকে কাগজ নিয়ে আসতে হবে।” হাসপাতালেও কোনো চিকিত্সা না পাওয়ায় তিনি বেসরকারীভাবে চিকিত্সা করাতে বাধ্য হন। কারণ, ইতিমধ্যেই তার পেটে পরপর মুহুর্মুহু লাথি মারার দরুণ অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়ে গেছিল এবং তার জেরে থানাতেই একটানা রক্তপাত হতে শুরু করে। আইনজীবী রিয়া জানিয়েছেন, তার রক্ত পা গড়িয়ে পড়তে থাকলেও এবং তা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো অভিযোগ জমা নেওয়া হয়নি।
রিয়ার অভিযোগ, এরপর তারা জানতে পারেন, যে যুবক তাদের মারধর করে সেই যুবকের দাদা উলুবেড়িয়ার কোনো পুলিশকর্মী। সেই সুবাদে ওই যুবক তাদের প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। অরূপ দাস জানিয়েছেন, “পুলিশের এই ভূমিকা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিনা। বিশেষত, বর্ধমান থানার আইসি স্নেহময় চক্রবর্তী ঐ মহিলা আইনজীবীকে আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন।” সামগ্রিক পরিস্থিতিতে তারা এদিন বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুধবার তারা প্রতীকি পেনডাউন ধর্মঘট পালন করবেন।আবার, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।





