eaibanglai
Homeএই বাংলায়ছেলে-বৌমার চাকরী গেলো, হৃদরোগে মৃত্যু মায়ের

ছেলে-বৌমার চাকরী গেলো, হৃদরোগে মৃত্যু মায়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:– ২৬ হাজার চাকরী বাতিলের ঘটনার সঙ্গে নিজের ছেলে এবং ছেলের বউয়ের চাকরীও বাতিল হওয়ার আশংকায় শেষ পর্যন্ত রায় শোনার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক মায়ের। মৃতের নাম মঞ্জুলা যশ (৬৮)। বাড়ি বর্ধমানের শক্তিগড় থানার সোনাকুড় গ্রামে। তাঁর এই মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে। শুক্রবার দুপুরে মঞ্জুলাদেবীর মৃতদেহ বাড়িতে আসতেই গোটা গ্রাম কার্যত ভেঙে পড়ে। এদিন মৃতের পুত্রবধুর দিদি ইন্দ্রাণী দত্ত এবং আত্মীয়া মৌসুমী দত্তরা জানিয়েছেন, মঞ্জুলাদেবীর হৃদরোগের কোনো সমস্যাই ছিল না। চাকরী বাতিল নিয়ে সুপ্রীম কোর্টে মামলা যাবার পর থেকেই তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগতে শুরু করেন। গত ১ এপ্রিল বাড়াবাড়ি হলে তাঁকে বর্ধমানের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয় হৃদরোগে। এদিন ইন্দ্রাণী দত্ত জানিয়েছেন, মৃতের ছেলে অর্ণব যশ এবং তাঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী দত্ত উভয়েই এই ঘটনায় চাকরী হারিয়েছেন। অর্ণব যশ বীরভূমের চাতরা গণেশলাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূগোলের একমাত্র শিক্ষক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী দত্ত বীরভূমের নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষিকা ছিলেন। সুপ্রীম রায়ে স্বামী স্ত্রী দুজনেরই চাকরি বাতিল হয়েছে। ইন্দ্রাণী দত্ত জানিয়েছেন, তাঁদের গোটা পরিবারেই এই রায় নিয়ে আশংকা ছিল। মঞ্জুলাদেবীও সেই আশংকার জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। যশ পরিবারের আত্মীয়া মৌসুমী দত্ত এদিন এই ঘটনায় সরাসরি দায়ী করেছেন বাম আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং রাজ্য সরকারকে। তিনি জানিয়েছেন, সকলেই জানেন অযোগ্য কারা। তাদের তালিকাও তৈরী ছিল। কিন্তু আদালত সেই অযোগ্যদের বাতিল করে যোগ্যদের চাকরি বহাল রাখতে পারতো। কিন্তু তাও হল না। হাইকোর্টের রায়ই উচ্চারিত হয়েছে সুপ্রীম রায়ে। নতুন কিছু বলা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারী চাকরী বাতিল হওয়ার ঘটনা ঘটল। এই লজ্জা সরকারের। বেসরকারী ক্ষেত্রে চাকরী যাওয়াটা অনেকেই জানেন। কিন্তু এবার প্রমাণিত হল সরকারী চাকুরীরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে ঘটনা ঘটল তাতে কত পরিবার জলে ভেসে গেল – এর দায় কে নেবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments