মনোজ সিংহ, নিউ দিল্লীঃ- গত ২৪ শে অক্টোবর থেকে ২৬ শে অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হল ডিএভি ন্যাশনাল স্পোর্টস ২০২৬ নিউ দিল্লীতে। ডিএভি স্পোর্টস হলো নয়াদিল্লির ‘ডিএভি কলেজ ম্যানেজিং কমিটি’-র একটি প্রধান উদ্যোগ। এটি বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ইভেন্টের আয়োজনের মাধ্যমে তাদের ক্রীড়াসুলভ সম্ভাবনাকে বিকশিত ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে এবং ডিএভি র শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়নে নিবেদিত। এর লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের এমন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের অধিকারী করে গড়ে তোলা, যাতে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডিএভি-র প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। ডিএভি ক্রীড়া কর্মসূচিতে আন্তঃস্কুল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৩.৫০ লক্ষ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ১৮টি অঞ্চলে বিভক্ত এই কর্মসূচিতে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সসীমার ছেলে ও মেয়েরা ৩১টি ভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে (যার মধ্যে রয়েছে কমব্যাট বা লড়াই-ভিত্তিক খেলা, (সময় নির্ভর খেলা এবং দলীয় খেলা) অংশ নেয়। আর্য সমাজের দর্শন এবং স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, তাদের লক্ষ্য কেবল শিক্ষাগত উৎকর্ষ সাধনই নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করা। ডিএভি বিভিন্ন আন্তঃবিদ্যালয় ক্রীড়া ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্ষমতাকে উৎসাহিত করে, যা তাদের মধ্যে ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা মূলক চেতনা গড়ে তোলে।
ডিএভি কলেজ ম্যানেজিং কমিটি ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক কর্তৃক একটি 'জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন সংস্থা' (ন্যাশনাল স্পোর্টস প্রমোশন অর্গানাইজেশন - NSPO) হিসেবে স্বীকৃত। তাছাড়া, স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SGFI)-এর পক্ষ থেকে DAVCMC-কে অন্যতম একটি ‘স্টেট’ (অঙ্গরাজ্য বা একক) হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডিএভি ন্যাশনাল গেমস কর্মসূচিটি প্রতি বছর দেশের ২৩টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া ভেন্যুগুলোতে আয়োজন করা হয়। ক্লাস্টার, রাজ্য বা জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের আগে, প্রতিটি খেলোয়াড়কে ‘ডিএভি স্পোর্টস’ এর নিবেদিত ওয়েব পোর্টালে নিবন্ধন করতে হয়।

ডিএভি ন্যাশনাল স্পোর্টস ২০২৬ এর দুদিনের মিলন মেলায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে প্রতিনিধিত্ব করা ডিএভি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে দুর্গাপুর ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উৎকর্ষতা ছিল নজর কাড়ার মত। প্রায় ৩১ টি বিভিন্ন স্পোর্টস বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের উচ্চমানের কার্যক্ষমতা দেখিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে গোটা দেশের মধ্যে বাংলা এখনো নাম্বার ওয়ান। গোটা দেশের ডিএভি স্কুলের প্রায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী এই ডিএভি ন্যাশনাল স্পোর্টস ২০২৬ অংশগ্রহণ করে। দেশের রাজধানী নতুন দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী নয়ডার প্রায় সব কটি ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম এই দুদিনের জন্য ছিল মিলন মেলা।
দুর্গাপুর ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কিপিং, যোগা, চেস সহ একাধিক ক্রীড়া বিভাগে স্বর্ণপদক লাভ করেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য খেলার উৎকর্ষ লক্ষ্য করা গিয়েছিল দুর্গাপুর ডিএভি মডেল স্কুলের খুদে অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগের (চেস) দাবাড়ুদের খেলাতে। ভারতবর্ষের ১৬ টি ডিএভি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে স্বর্ণপদক বিজয়ী হয় দুর্গাপুর ডিএভি মডেল স্কুলের খুদে অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগের (চেস) দাবাড়ুরা।

বিগত বছরগুলিতে ডিএভি এর যে কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী খেলাধুলায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, কপিল দেব (ক্রিকেট), এম এস ধোনি (ক্রিকেট), নীরজ চোপড়া (জ্যাভলিন থ্রো), সাক্ষী মালিক (কুস্তি), মনু ভাকের (শুটিং), সর্বজ্যোত সিং (শুটিং), উন্নতি শর্মা (জুডো), দীপক কুমার মণ্ডল (ফুটবল), বিষ্ণু বর্ধন (লন টেনিস), মনিকা বাত্রা (টেবিল টেনিস), হরমনপ্রীত কৌর (ক্রিকেট), নাল্লাপুরেড্ডি শ্রী চারানি (ক্রিকেট) এবং হরমনপ্রীত সিং (হকি)। ডিএভি এর শিক্ষার্থীরা কমনওয়েলথ, এশিয়ান এবং অলিম্পিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তারা শ্রেষ্ঠত্ব ও আত্মসংযমের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ডিএভি কেবল চ্যাম্পিয়নই তৈরি করছে না, বরং গঠন করছে সুদৃঢ় চরিত্রও।