eaibanglai
Homeএই বাংলায়দিঘার মন্দিরের পর দুর্গা অঙ্গন নির্মাণেও দুর্গাপুরের সংস্থাই

দিঘার মন্দিরের পর দুর্গা অঙ্গন নির্মাণেও দুর্গাপুরের সংস্থাই

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- দিঘার পর এবার খোদ কলকাতায়। একের পর এক সরকারি মন্দিরের বরাত পেয়ে নজির গড়ল দুর্গাপুরের নির্মাণ সংস্থা, যা নিয়ে হইচই শহরের নির্মাণ শিল্পে।

কেউ বলছেন হাওড়ার অন্য একটি সংস্থার দাক্ষিণ্য়ে দুর্গাপুরের সুবীর ইঞ্জিনিয়ারিং পর পর মন্দির নির্মাণের বরাত পাচ্ছে, কেউ বলছেন, সিপিএম ঘরানার হলেও, প্রশাসনের অনেকের সাথেই ওদের দারুণ মধুর সম্পর্ক, তো কারো কারো মত – সর্বনিম্ন দর দিয়েই ওরা দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের, আর কলকাতার নিউ টাউনের দুর্গা অঙ্গনের কাজের বরাত পেয়েছে, এতে সন্দেহ করার কিছুই নেই!

এদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গামন্দির গড়ে তোলার পথে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। গত ২৯ ডিসেম্বর নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরলেন এই মহাপ্রকল্পের পরিকল্পনার খুঁটিনাটি। গত ২১ জুলাই তার দলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কলকাতায় দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এবার ২৯ ডিসেম্বর সেই ঘোষণার বাস্তব রূপ দিতেই রিমোটের বোতাম টিপে বিকেল ৩:৫৬ মিনিটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন তিনি। তার পর ফলকের সামনে লাল রঙের উপর সোনালি সুতোর কাজ করা একটি শাড়ি অর্পণ করতেও দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে।

এই দুর্গা অঙ্গনের মন্দিরের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে শীর্ষে রেখে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে, বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই ট্রাস্টই নির্মাণ থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দুর্গা অঙ্গনের তহবিলে ইতিমধ্যেই যে অর্থ জমা পড়েছে, তাতে দুর্গামূর্তির খরচ উঠে গিয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর হিডকোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন,আগামী জানুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হবে।

বাংলার মন্ত্রিসভা এই বছরের ২২শে আগস্ট ২২৯.৭৫ কোটি টাকার দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পরে এটি হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় প্রকল্প। নিউ টাউন বাস টার্মিনাসের বিপরীতে এলাকা দুর্গাপুর ভিত্তিক নির্মাণ সংস্থা, ‘সুবীর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড’ সবচেয়ে সফল দরদাতা হওয়ার পর প্রকল্পটি পেয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। সরকার দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে চায়। প্রাথমিকস্তরে, এটি ১২.৬ একর জমির উপর ২৬১.৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল, যা এখন কমিয়ে ২২৯.৭৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। যদিও এলাকাটি ১৭.২৮ একরে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। তবে, প্রকল্পটি ইকো পার্কের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাস টার্মিনাসের বিপরীতে।

তাদের বহুল চর্চিত ১১৩.৫২ কোটি টাকার দিঘা জগন্নাথ ধাম প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পাঁচ বছর সময়ে শেষ হওয়ার পর ‘সুবীর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড’ এর শঙ্কর সরকার এবং তার দুই অংশীদার – সুজিত ঘোষ এবং বাবু অধিকারী আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এই নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য। আটের দশকের ছোট্ট নির্মাণ সংস্থার কাজের পরিশর এভাবে শতশত কোটি টাকায় বাড়লেও, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪৯.৫ লক্ষ টাকা। যার সাপেক্ষে সংস্থার অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ৫০ লক্ষ টাকার, – কোনো বৃহৎ প্রকল্পের জন্যে এই মূলধন সামান্যই, বলে লগ্নিকারীদের একাংশ মনে করেন।

গত ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কোম্পানিটিকে দিঘা প্রকল্পের জন্য চুক্তির বরাত দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্পটি সময়ে সফল রূপায়ণ হওয়ায় দুর্গা অঙ্গন নির্মাণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন কোম্পানিটির কর্ণধারেরা।

‘সুবীর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেড’ এর অন্যতম কর্ণধার শঙ্কর সরকার জানান,”আমরা ৫ বছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিঘা জগন্নাথ মন্দির প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছি, এবং এখন এই দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পটি আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। দিঘার কাজের আগে,আমরা ঝাড়খণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে দুটি মন্দির সম্পন্ন করেছি।” দুর্গা অঙ্গন সম্পর্কে, তিনি বলেন,”যদিও গত সোমবার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এখনও প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্কন সরবরাহ করা হয়নি হিডকো বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এই প্রকল্পটি সফল হওয়ার জন্য, আমাদের সরকারের কাছ থেকে সময় মতো সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময় মতো দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।”

দুর্গা অঙ্গনের মূল মন্দির হবে প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে। চার দিকে থাকবে বিস্তৃত খোলা চত্বর ও সবুজায়ন। দৈনিক প্রায় এক লক্ষ দর্শনার্থী যাতে নির্বিঘ্নে আসতে পারেন, সেই হিসেবেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্দির চত্বরে নকশা করা খিলানের সঙ্গে তৈরি হবে ১০০৮টি স্তম্ভ। গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। সেখানে থাকবে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি এবং ৬৪টি সিংহমূর্তি। সিংহদুয়ারের পাশাপাশি থাকছে পবিত্র কুণ্ড।

দুর্গামন্দিরের পাশাপাশি পৃথক ভাবে নির্মিত হবে শিব, লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের মন্দির। বছরে ৩৬৫ দিনই দুর্গাপুজো হবে এখানে। গর্ভগৃহের বাইরের অংশে একসঙ্গে প্রায় এক হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা মঞ্চ, প্রসাদ ঘর এবং পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকছে। ‘দুর্গা অঙ্গন’ হবে একটি বিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যা বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments