নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করল কোকওভেন থানার পুলিশ। সোমবার ধতদের মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যাতে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকিদের হদিশ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত রবিবার দুর্গাপুরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের করঙ্গপাড়ায় পোস্টঅফিস দেওয়ালে তৃণমূলের দেওয়াল লিখন মুছতে গিয়ে আক্রান্ত হন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত মহকুমাশাসক দপ্তরের দুই কর্মী। অভিযোগ তারা দেওয়াল লিখন মুছে গাড়িতে উঠতে গেলে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে তৃণমূলের কর্মীরা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। পরে কোকওভেন থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি ডক্টর প্রণব কুমার নিজেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। অভিযুক্তদের ধরতে রাতেই চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে।
এদিকে এই হামলার ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী কবি দত্ত এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে দাবি করেন ”যে দেওয়ালটি নিয়ে বিতর্ক, সেটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। মালিকের অনুমতি নিয়েই দেওয়াল লিখন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এখানে বিজেপির হয়ে কাজ করছে।”
যদিও প্রশাসন ও কমিশনের তরফে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে হামলার ঘটনার পর থেকেই করঙ্গপাড়া ও সংলগ্ন এলাকা থমথমে রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যৌথভাবে রুটমার্চ শুরু করেছে।

















