নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- ধর্ষণের অভিযোগে তিন মাস তিহার জেল খাটা ব্যবসায়ীর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতি থেকে বিজেপি নেতৃত্ব। এমনই অভিযোগে বিতর্ক শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষের সুর তৃণমূল নেতৃত্বের গলায়।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকার মুচিপাড়ার মার্বেল ব্যবসায়ী হিরন্ময় দাসের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে দিল্লিতে এক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সেই মামলায় তিন মাস জেলও খাটতে হয়েছিল ওই ব্যবসায়ীকে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। বিতর্কিত ওই ব্যবসায়ীর উদ্যোগে মুচিপাড়ায় ব্যবসায়ীর মার্বেলের শোরুম সংলগ্ন চত্বরেই গড়ে উঠতে চলেছে বেসরকারি হাসপাতাল। তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বুধবার হাজির হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই প্রমুখ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
যদিও বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমিক ভট্টাচার্য বলেন, “যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেই এর উত্তর দিতে পারবেন। দেশে আইন আছে, আইনের শাসন আছে। আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকলে থানায় গিয়ে জানান।” অন্যদিকে ব্যবসায়ী হিরন্ময় দাসের দাবি, তাকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছিল। মাসখানেক আগে আদালত তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষের সুর শোনা গেছে তৃণমূল নেতৃত্বের গলায়। জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল, সে এখন বিজেপির ঝাণ্ডা ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনও লাভ হবে না। বাংলার মানুষ বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে ঘিরেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ঘিরে বিজেপির অস্বস্তি বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


















