নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- রাজ্য সরকার সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বেকার যুবক যুবতিদের জন্য চালু করা হয়েছে নতুন ভাতা যুব সাথী প্রকল্প। এর আগে দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে ক্লাবগুলির অনুদানও বাড়ানো হয়েছিল। এইভাবে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি পেয়েছে ধাপে ধাপে। অথচ যাদের এই ভাতার বিশেষ প্রয়োজন সেই বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের ভাতা বাড়ায়নি সরকার। এমনই অভিযোগে ও ভাতা বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে সোমবার মহকুমা শাসক দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনী, দুর্গাপুর শাখা।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর ব্যানারে প্রায় শতাধিক প্রতিবন্ধী মানুষজন এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন। সিটিসেন্টারের ভগত সিং ক্রীড়াঙ্গন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। সেখান থেকে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষরা হুইলচেয়ার ও ট্রাই সাইকেল চালিয়ে, লাঠিতে ভর দিয়ে, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে, মহকুমা শাসক দপ্তরে পৌঁছায় এবং প্রতিবাদে সরব হয়। শেষে মহকুমা শাসকের দপ্তরে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঘোষ এদিন বলেন,“১০০০ টাকায় সংসার চলে না। সমান অধিকার চাই। বাজারদর বেড়েছে বহুগুণ। ওষুধ, চিকিৎসা, যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই কাজ করতে অক্ষম, পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে মাসে মাত্র ১০০০ টাকা ভাতা দিয়ে বাস্তবিকই জীবনধারণ অসম্ভব।”
অন্যদিকে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের এই প্রতিবাদ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী বিজেপিও। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল কটাক্ষের সুরে বলেন, “রাজ্য সরকার মেলা খেলা এবং নানান প্রকল্প করে অর্থবৃদ্ধি করছে। কিন্তু যারা প্রকৃত পাওয়ার যোগ্য তাদের দেওয়া হচ্ছে না। এর থেকেই বোঝা যায় এই সরকার মানুষের প্রয়োজন বোঝে না, শুধুই ভোটের রাজনীতি করে।”
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে রাজ্যের প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য ১০০০ টাকা মাসিক ভাতা নির্ধারিত করেছিল সরকার। কিন্তু অভিযোগ দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ভাতা এক টাকাও বাড়েনি।


















