নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- ফের ডিভিসির উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা দুর্গাপুরের অর্জুনপুরে। ভোররাতে অন্ধকারে উচ্ছেদের নামে লুটপাট ও শারীরিক হেনস্থার মতো অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ডিভিসির বিরুদ্ধে। এমনকি ক্যান্সার রোগী মহিলাকে ঘর থেকে জোর করে বার করে দেওয়ার মতো অমানবিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল। আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর।
প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিটিপিএস বা দুর্গাপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশন সংস্থার সম্প্রসারনের কাজ শুরু করেছে ডিভিসি। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ৮০০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর জমি। গত বছর থেকেই অধিৃত জমি পুনরুদ্ধারে নেমেছে ডিভিসির কর্তৃপক্ষ। তার জন্য লাগাতার চলছে উচ্ছেদ অভিযান। এছাড়াও অর্জুনপুরে ইতিমধ্যে শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু করেছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে শুক্রবার ভোররাতে নির্মীয়মান হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিভিসি। এলাকায় বেশ কয়েকটি টালির বাড়ি বাড়ি ছিল সেগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভোরের আলো ফেটার আগে অন্ধকারে প্রচণ্ড শীতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও শারীরিক হেনস্থা ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ ভোর রাতে অন্ধকারের মধ্যে ৫০-৬০ জনের একটি দল হঠাৎ হামলা চালায়। বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের বার করে দিয়ে সোনার গয়না, ল্যাপটপ, মোবাইল সহ মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট চালানো হয়। তারপর বাড়ি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি চাইনা বাউরি নামে এক ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাকেও রেয়াত করা হয়নি। তাকেও ধাক্কা দিয়ে শীতের রাতে ঘরের বাইরে বার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যান তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অরবিন্দ নন্দী। তাঁর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। অরবিন্দ নন্দী বলেন, “যতক্ষণ না পর্যন্ত এই ঘটনার সঠিক বিহিত হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।
অন্যদিকে উচ্ছেদ ঘিরে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ। ডিভিসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার অমিত মোদি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবার গুলি ডিভিসির জমি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জমি ছাড়েনি। সেই কারণেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। পাল্টা তিনি দাবি করেন, অভিযান চলাকালীন তাদের কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত গত প্রায় এক বছর ধরে উচ্ছেদ অভিযান করতে গিয়ে বার বার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে। তবে ইতিমধ্যে মায়াবাজারে ডিটিপিএস টাউনশিপ এলাকায় বহু জমি পুনরুদ্ধারও করেছে কর্তৃপক্ষ। ভাঙা হয়েছে বহু বেদখল আবাসন। এছাড়াও ডিভিসির জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ করে শুরু হয়েছে সীমানা প্রচীর দেওয়ার কাজ।


















