eaibanglai
Homeএই বাংলায়অজয়ের অস্থায়ী সেতুর কাজ বন্ধের অভিযোগ, তুমুল বিক্ষোভ স্থানীয়দের

অজয়ের অস্থায়ী সেতুর কাজ বন্ধের অভিযোগ, তুমুল বিক্ষোভ স্থানীয়দের

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- জয়দেব মেলা উপলক্ষ্যে অস্থায়ী সেতুর দাবিতে ব্য়াপক উত্তেজনা ছড়াল কাঁকসার বিদবিহারের নবগ্রাম এলাকায়। এদিন সকাল থেকে ১৪ নম্বর রাজ্য সড়কের জয়দেব সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়। বাঁশ বেঁধে রাস্তা বন্ধ করে, টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ প্রতিবাদ। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চলা এই অবরোধের জেরে পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম দুই জেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত বীরভূমের কেন্দুলির জয়দেব মেলার খ্যাতি জগৎজোড়া। প্রতিবছর মকর সক্রান্তি উপলক্ষ্যে মেলা বসে এখানে। যেখানে বাউল সাধকদের গান, নাচ এবং লোকশিল্পের এক অসাধারণ প্রদর্শনী হয়। এক কথায় বলতে গেলে এই মেলা লোক সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে অজয় নদ। নদের একদিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের বিদবিহার গ্রাম অন্যদিকে বীরভূমের কেন্দুলি । প্রতিবছর জয়দেব মেলার সময় বিদবিহারে পশ্চিম বর্ধমান থেকে জয়দেবে যাওয়ার জন্য অজয়ের উপর তৈরি করা হয় অস্থায়ী সেতু। কিন্তু সম্প্রতি দুই জেলার ( পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম) যোগাযোগ সরল ও দ্রুত করতে কাঁকশার শিবপুরে অজয়ের উপর স্থায়ী সেতুর কাজ শেষ হয়। গত বছর জুলাই মাসে সেতুর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে অজয়ের উপর স্থায়ী সেতু হয়ে যাওয়ায় এবার আর জয়দেব মেলা উপলক্ষ্যে অস্থায়ী সেতুর অনুমতি দেয়নি সেচ সপ্তর ও প্রশাসন। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের সৃষ্টি হয় স্থানীয়দের মধ্যে। শুরু হয় আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। সেতু না হলে বিদবিহারের মানুষের রুজি রুটিতেও টান পড়বে বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সরব হয় বিজেপি। প্রায় এক মাস ধরে চলে আন্দোলন। অবশেষে সপ্তাহ খানেক আগে বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের তদারকিতে শুরু হয় অস্থায়ী সেতু তৈরির কাজ। বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন সূত্রধর দাবি করেন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং বিধায়ক নেপাল ঘড়ুইয়ের উদ্যোগে সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বীরভূম প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে এবং মঙ্গলবার বিকেলে বীরভূম সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা বিদবিহার এলাকায় পৌঁছে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের আটকে রেখে চলে তুমুল বিক্ষোভ। খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে যায় কাঁকসার মলানদিঘী ফাঁড়ি ও ইলামবাজার থানার পুলিশ। পুলিশের মধ্যস্থতায় আধিকারিকরা ছাড়া পেলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা। সেই মতো বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ।

এদিন সকাল থেকে অজয়ের স্থায়ী জয়দেব সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয়রা। যার জেরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই জেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতু অবরোধের জেরে দুই জেলায় যাতায়াতকারী সমস্ত যানবাহন সাড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। খবর পেয়ে ছুটে যায় মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ। কিন্তু পাল্টা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। অবশেষে ব্লক অফিসের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments