নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে রায়দান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ই বহাল রেখেছে দেশের শীর্ষ আদালত। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-র ২০১৬ সালের গোটা নিয়োগ প্যানেলই বাতিল করা হয়েছে। যার জেরে চাকরি বাতিল হচ্ছে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার (২৫,৭৫২) শিক্ষক শিক্ষিকার।
আর এই চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষ শিক্ষিকাদের তালিকায় নাম রয়েছে দুর্গাপুরের দুই সরকারি স্কুলের মোট ১২ জন শিক্ষক শিক্ষিকার। নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকা এবং জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষক শিক্ষিকা।
এদিকে চাকরি বাতিলের খবরে একদিকে যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন শিক্ষক শিক্ষিকারা তেমনই শিক্ষক শিক্ষিকা ছাড়া স্কুল কীভাবে চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা। নেপালিপাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. কলিমুলহক বলেন,”আমাদের স্কুলে চার হাজার দুশো পড়ুয়া রয়েছে। ৩৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ জনের চাকরি বাতিল হল। এবার আমরা স্কুল চালাবো কি করে? মহামান্য আদালতের নির্দেশ নিয়ে আমার প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। তবে আমি মহামান্য আদালতের কাছে অনুরোধ করছি যারা যোগ্য আছে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। শিক্ষা দপ্তর কি ব্যবস্থা নেয় সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছি আমরা।”
অন্য়দিকে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এমন রায় ঘোষণা হবে, কল্পনা করতে পারছেন না ২০১৬ সালের প্যানেলে নাম থাকা শিক্ষক, শিক্ষিকারা।
আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি ২০১৬ সালের এসএসসি’র মাধ্যমে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি যাঁরা অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালের এসএসসির মাধ্যমে স্কুলের চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, তাঁরা চাইলে পুরনো কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবেন বলে রায় দানে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এদিকে শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পরই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুসারে আগামী তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ পক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হবে। এবিষয়ে এসএসসিকে ব্য়বস্থা নিতে বলা হবে। পাশাপাশি তিনি চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে জানান, যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁরা বিচার পাওয়ার জন্য ডিপ্রাইভড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন তৈরি করেছেন। তাঁদের অনুরোধে আগামী ৭ এপ্রিল নেতাজি ইনডোরে তাঁদের কথা শুনতে যাবেন।





