নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- মায়ের মন বলে কথা! সন্তানের অসুস্থতার খবর শুনে বসে থাকতে পারেননি ঘরে। উপায় না থাকায় একাই সন্তানের টানে বেসরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে পারি দিলেন বৃদ্ধার। কিন্তু জানা নেই ঠিকানা। দুর্গাপুরের কোন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ছেলে। ব্যাস এই তথ্য নিয়েই একেবারে বীরভূম থেকে দুর্গাপুরে হাজির বৃ্দ্ধা মা। অবশেষে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল বৃদ্ধাকে। বুধবার এমনই এক আবেগঘন মুহুর্তের সাক্ষী থাকল শহর দুর্গাপুর।
জানা যায় এদিন বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের ভীমগড়, রতনপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধা পরিমল পাঁজা বাসে করে দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে পৌঁছে যান। তিনি জানতেন না তাঁর ছেলে দুর্গাপুরের বিধানগরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি সেখানে বাস থেকে নেমে বেসরকারি হাসপাতালের খোঁজ করতে থাকেন। স্থানীয়রা বিষয়টি লক্ষ্য করে তাকে বাসে করে গান্ধীমোড়ে পাঠিয়ে দেন। সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে সামনে তাঁকে বিভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ড সৌরভ দাস। তিনি বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন দুর্গাপুরের কোন হাসপাতালে তাঁর ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোন ঠিকানা নেই। বিষয়টি তিনি ট্রাফিক ওসি সুকান্ত দাসের নজরে আনেন। সুকান্তবাবু তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছন ও বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগের মধ্যে একটি কাগজের চিরকুটে একটি ফোন নম্বর পাওয়া যায়। সেই নম্বরে ফোন করে বৃদ্ধার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় এবং জানা যায় বৃদ্ধার ছেলে বিধাননগরের বিবেকানন্দ হাসপাতালে ভর্তি। এরপর গাড়িতে করে তাকে ওই হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং সেখানে অপেক্ষারত পরিবারের সদস্যার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়।
বৃদ্ধাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের এই মহতি উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তাঁরা।



















