দেশ ও বিদেশ

কুখ্যাত তৃণমূলী রাঘব বোয়ালদের আড়াল করতে কি চুনোপুটি গ্রেপ্তার শিল্পাঞ্চলে ?

By Eaibanglai - May 30, 2026
— Advertisement —
Advertisement
কুখ্যাত তৃণমূলী রাঘব বোয়ালদের আড়াল করতে কি চুনোপুটি গ্রেপ্তার শিল্পাঞ্চলে ?

দুর্গাপুর থানার পুলিশ আধিকারিক এর কাছে এফআইআর(FIR) হল কার নামে ?

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- গত ৪ (চৌঠা)মে রাজ্যে নতুন সরকারের আগমনের পর এখন সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে সাফাই অভিযান। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন কোনরকম দুর্নীতি, তোলাবাজি, জমি দখলকারী ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের কে জেলের বাইরে রাখা যাবে না। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ পাওয়ার সাথে সাথেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল কাউন্সিলর, নেতা, ব্যবসায়ী ও লিংক মেনদেরকে বেছে বেছে চিহ্নিত করে জেলে ভরার কাজ করছে রাজ্য পুলিশ। তেমনি পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়েও চলছে এই সাফাই অভিযান। যদিও সাধারণ মানুষের অভিযোগ ধরপাকড় শুধুমাত্র এখন নিচুস্তরেই হচ্ছে, এক কথায় বলতে গেলে শুধু চুনোপুটিরাই ধরা পড়েছে।

বিরোধী দলনেতা হিসেবে বহুবার শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসেছেন এবং একাধিক কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া, বালি মাফিয়া, লোহা মাফিয়া ও সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্যকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একছত্রপতি অধিকারী ছিলেন এইসব কুখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। শিল্পাঞ্চল আসানসোল,দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ এলাকায় তৃণমূলের তারা সম্পদ ছিলেন। নবরত্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। বহু আগে থেকেই অভিযোগ ছিল রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর ছাত্র ছায়ায় বেড়ে উঠেছে এমন ৯ জন ব্যক্তির নাম। কিন্তু রাজ্য সরকারের পালাবদল ও কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও শুধু চুনোপুটিরাই ধরা পড়েছে। ওই রাঘব বোয়ালরা কিন্তু তাদের শৈল তীর্থে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এদের হাতে লাঞ্ছিত, অত্যাচারিত ও লুন্ঠিত অসহায় শিল্পাঞ্চলবাসির চাপা ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্যঃ দুর্গাপুরের এক বিশিষ্ট সমাজসেবী শান্তনু মিশ্র বিগত কয়েক বছর ধরে শিল্পাঞ্চলের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির দুর্নীতি ও সরকারি জায়গা জবরদখলকারী বিরুদ্ধে সোচ্চার আছেন। সেই শান্তনু মিশ্র এক লিখিত অভিযোগে দুর্গাপুর নগর নিগমের মাননীয় কমিশনারকে একটি হোটেলের বেআইনি কার্যকলাপ ও সরকারি জায়গা জবরদখলকারী বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানিয়েছেন। শান্তনু মিশ্র অভিযোগ করেন, “গত ২৫ ২ ২০২৫ তারিখে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের চিঠি পাওয়ার পরেও দুর্গাপুর পৌর নিগমের কমিশনার কোন পদক্ষেপ নেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকারের পালাবদল হলেও এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের তৃণমূলী “ওয়াককালচার” মন থেকে মুছে যায়নি। তাই আর কোন রাস্তা না দেখে সরাসরি দুর্গাপুর থানার পুলিশ আধিকারিক এর কাছে এফআইআর করতে বাধ্য হলাম। এবার নিশ্চয়ই রাজ্য পুলিশ, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ ও দুর্গাপুর নগর নিগম উপযুক্ত তদন্ত করে প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে সরকারি জায়গা বেআইনি ভাবে জবরদখলকারী ওই হোটেলের কর্মকর্তা ও হোটেলের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।”

অন্যদিকে, সাধারণ শিল্পাঞ্চল বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রশ্ন “ওয়াশিং মেশিন” কি চালু হয়ে গেল শিল্পাঞ্চলে? আদৌ কি নতুন রাজ্য সরকার ওইসব দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবেন? নাকি “ওয়াশিং মেশিনের” ব্যবহার করে আবার তাদেরকে পুনরায় লুটের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবেন? সময় এর উত্তর দেবে।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement