সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু থাকলেও, বাস্তবে তা না মেলার এক চরম অমানবিক ঘটনা সামনে এলো। সরকারি চালকদের অসহযোগিতার জেরে শেষ পর্যন্ত মাঝরাস্তাতেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হলেন এক অসহায় মা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের ত্রিলোকচন্দ্রপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিলোকচন্দ্রপুরের বাসিন্দা আকাশ বাগদীর স্ত্রীর শুক্রবার ভোরে হঠাৎ প্রসব বেদনা ওঠে। জরুরি ভিত্তিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি কার্ডে থাকা নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, চালকরা ‘বিশ্বকর্মা পুজো’র বাহানা দিয়ে বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। উল্টে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, অন্তত এক হাজার টাকা না দিলে তারা কোনোভাবেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাবে না।
সংকটজনক পরিস্থিতিতে কোনো উপায় না দেখে, তড়িঘড়ি অতিরিক্ত টাকা খরচ করে একটি বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করেন আকাশবাবু । কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মাঝরাস্তায় গাড়ির ভেতরেই সন্তান প্রসব করেন তাঁর স্ত্রী।
পরবর্তীতে মা ও সদ্যোজাতকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় পানাগড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তৎপরতার সাথে তাঁদের দ্রুত ভর্তি নেন এবং চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ ও বিপদমুক্ত রয়েছেন।
এদিকে সরকারি পরিষেবার এমন চরম গাফিলতি ও অমানবিক আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আকাশ বাগদী ও তাঁর পরিবারসহ গোটা এলাকার মানুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আকাশবাবু। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা যদি আপদকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের কাজেই না লাগে, তবে এমন লোকদেখানো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়াই উচিত।" এই চরম গাফিলতির ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।