eaibanglai
Homeএই বাংলায়গুসকরা মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো 'ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা' সম্পর্কিত কর্মশালা

গুসকরা মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো ‘ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা’ সম্পর্কিত কর্মশালা

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, গুসকরা, পূর্ব বর্ধমান-: সুদূর অতীত কাল থেকেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা থেকে শুরু করে সমাজ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতীয় জ্ঞান ও চিন্তার একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আছে। বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ, গীতা, অর্থশাস্ত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রন্থে তার উল্লেখ পাওয়া যায়। শরীরকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে যোগার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এমনকি সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে সংস্কৃত সহ অন্যান্য ধ্রুপদী ভাষার অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচীন ভারতের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও জীবন দর্শন ইত্যাদি প্রচার করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ২৪ শে অক্টোবর গড়ে ওঠে ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম বা ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থা। এটি ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের একটি উদ্ভাবনী বিভাগ। 

নতুন শিক্ষানীতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সংস্থাটি গড়ে ওঠার পর থেকেই ভারতের অতীত ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার ও বিশ্বব্যাপী প্রচারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে অবহিত করার জন্য তারা বেশ কিছু ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মহাবিদ্যালয় স্তরের শিক্ষাঙ্গনে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করে চলেছে। সম্প্রতি গুসকরা মহাবিদ্যালয়ের সদ্য গড়ে ওঠা আইকেএস সেলের উদ্যোগে এবং আইকিউএসি -র সক্রিয় সহযোগিতায় একটি একদিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন ড. প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তিলক চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকটি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সহ গুসকরা মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা, ছাত্রছাত্রী ও অধ্যক্ষ ড. সুদীপ চ্যাটার্জ্জী। স্বাগত ভাষণে সুদীপ বাবু এই কর্মশালার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। প্রদীপ বাবু তার বক্তব্যে ছাত্রছাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে অতীত থেকে বর্তমানের পাশাপাশি বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ উঠে আসে। মহাবিদ্যালয়ের কর্মসমিতির সদস্য তথা প্রাক্তন শিক্ষক জীবন চৌধুরী বক্তব্যে রামায়ণ, অভিমন্যুর প্রসঙ্গ, গুরুগৃহে শিক্ষা, আরুণি উপাখ্যান ইত্যাদির কথা উঠে আসে। তিনি বলেন এই ধরনের কর্মশালা তখনই স্বার্থক হবে যখন প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। একের পর এক উদাহরণ দিয়ে সরস ভঙ্গিতে তিলক বাবু তার বক্তব্যে সফলতার পাশাপাশি উৎকর্ষতার উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এই শিক্ষায় মূল্য একই থাকলেও বিষয়বস্তু হচ্ছে আধুনিক। তিনি ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গে রোমাঞ্চকর বিষয়বস্তুর কথা বলেন। তার বক্তব্য চলাকালীন দর্শক আসন থেকে বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসে। কিছুক্ষেত্রে তিনি এইসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে হাসতে হাসতে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করেন। সবমিলিয়ে অসাধারণ এক কর্মশালার সাক্ষী থাকার সুযোগ পান সেমিনার হলে উপস্থিত শ্রোতৃমণ্ডলী। এর আগে উপস্থিত অতিথিদের বরণ করে নেয় আয়োজক মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী অঙ্কিতা, কোয়েল, দিয়া ও অনন্যা। প্রদীপ প্রজ্বলিত করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন উপস্থিত অতিথিদের পাশাপাশি এই মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা সহ অন্যান্যরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments