মনোজ সিংহ, পাণ্ডবেশ্বরঃ- কথিত আছে মাতৃ পিতৃ ঋণ নাকি কখনো শোধ করা যায় না। কিন্তু পূর্বজন্মের পূর্ণ কর্মের ফলে এমন সন্তান ও পরিবার পাওয়া যায়, যারা কিনা প্রিয়জনের মৃত্যুর পরেও তাকে জীবিত রাখেন বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ও দৃষ্টান্তমূলক সামাজিক কাজকর্মের মধ্যে। এমনই এক অনন্য নজির সৃষ্টি হল গত মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান পাণ্ডবেশ্বরে। পাণ্ডবেশ্বরের অজয় নদীর তীরে অবস্থিত বহু প্রাচীন শ্মশানকে পুনরুজ্জীবিত করার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লির নির্মাণ ও শুভ উদ্বোধন হয়। অত্যাধুনিক এই বৈদ্যুতিক শ্মশানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শবদাহ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও সাশ্রয়কারী এবং পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি প্রকল্পটি রোটারি ক্লাবের পরিচালনায় ‘দে গ্রুপের’ কোল মাইন্স অ্যাসোসিয়েটেড ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড, তাদের সিএসআর তহবিলের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছে। শিল্প ও সামাজিক সংগঠনগুলির মধ্যে এই সমন্বয় স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত প্রশংসিত হচ্ছে।

এই বৈদ্যুতিক শ্মশানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের বরিষ্ঠ মহারাজ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি বিশ্বদীপ দে,পাণ্ডেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের এর চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দে গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার শিল্পপতি সন্দীপ দে, দুর্গাপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুপ্রিয় গাঙ্গুলি এবং রোটারি ক্লাবের বিশাল হান্ডা সহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা এই উদ্যোগকে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রশংসা করেন। বিধায়ক নরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী এবং কবি দত্ত আশ্বাস দেন যে ভবিষ্যতে শ্মশানটির আরও উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদান করবেন।

দে গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার শিল্পপতি সন্দীপ দে, গ্রুপের সহায়তা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এদিন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি জানান, “তার স্বর্গীয় পিতা বলরাম দের স্মৃতি উদ্দেশ্যে বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের জন্য এই অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লীর নির্মাণ করতে পেরে গর্বিত অনুভব করছেন। গত বছর ২১ শে জানুয়ারি এই বৈদ্যুতিক চুল্লির ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল। এবং মাত্র এক বছরের মধ্যেই আজ ২১শে জানুয়ারি এই অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন হচ্ছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সামাজিক পরিকাঠামো উন্নয়নের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হল।”

রোটারি ক্লাবের বিশাল হোন্ডা দে গ্রুপের সহায়তার প্রশংসা করেন। দে গ্রুপের এই উদ্যোগ কেবল একটি কাঠামো নির্মাণের জন্য নয়, বরং এর শিকড় এবং আদর্শের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনন্য নজির।
এটি উল্লেখযোগ্য যে ‘কোল মাইন্স অ্যাসোসিয়েটেড ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ (দে গ্রুপ) তার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সিএসআর তহবিলের মাধ্যমে জনকল্যাণ মূলক কাজে ধারাবাহিক ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বলরাম দে-এর পবিত্র স্মৃতিতে নিবেদিত এই ‘হাই-টেক শ্মশান’ সমাজের প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকারের জীবন্ত প্রতীক।






















