এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক,কলকাতাঃ- অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রুবি হাসপাতাল মোড়ের দুর্গাপূজা এবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক থিমের কারণে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে। ২০২৬ সালের এই শারদীয় উৎসবে মহাসভার পূজার মূল ভাবনা—"নন্দীগ্রাম টু নবান্ন, বুবাইয়ের জয়যাত্রা"। এই থিমের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (বুবাই)-এর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণআন্দোলন এবং নবান্ন জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যকে মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। নিষ্ঠা ও সাত্ত্বিক উপাচারে সোমবার খুঁটি পূজা হয়ে গেল এই দুর্গোৎসবের। অন্যজিকে ঐতিহ্যবাহী কালীঘাটের ঐতিহাসিক হিন্দুমহাসভা ঘাটের পবিত্র মাটি দিয়েই তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার মূল প্রতিমা।
উদ্যোক্তারা জানান, মণ্ডপের অভ্যন্তরীণ সজ্জা কোনো কাল্পনিক আবহে নয়, বরং বাস্তব ইতিহাসের ফ্রেমে সাজানো হচ্ছে। বিভিন্ন ছবি, ব্যানার, ম্যুরাল এবং মডেলের সাহায্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শৈশব, ছাত্র রাজনীতি, নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত সমস্ত মাইলফলক তুলে ধরা হবে।
শুধু তাই নয়, মণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ চমক। শুভেন্দু বাবুর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং নবান্ন বিজয়ের রূপরেখাকে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্মের (শর্ট ফিল্ম) আকারে তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের ভেতরে বড় প্রজেক্টর ও স্ক্রিনের মাধ্যমে এই ভিজ্যুয়াল ন্যারেটিভ সার্বক্ষণিকভাবে প্রদর্শিত হবে।
পূজার থিমের বিষয়ে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ড. শ্যমাপ্ৰসাদ মুখার্জির পুণ্যভূমি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার জনগণের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সনাতনী জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে চিরস্মরণীয় ও সাক্ষী করে রাখতেই আমরা হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে এবছর এই রকম অভিনব থিম নির্বাচন করেছি।"
তিনি আরও জানান, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ পূজার শুভ উদ্বোধন করার জন্য ইতিমধ্যেই মহাসভার পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে সশ্রদ্ধ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়াও ডক্টর গোস্বামী দেশের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে জানান, "ভারতবর্ষের সমস্ত শুভেন্দুপ্রেমী মানুষ যারা জনগণের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বাবুর উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা দিতে চান, তাঁরা সরাসরি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরাই তাঁদের মাধ্যম হয়ে সেইসব শুভেচ্ছা স্লোগান বা তথ্যচিত্র সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব।"