এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

তদন্ত শুরুঃ দুর্গাপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগের (পর্ব ২)

By Eaibanglai - August 23, 2026
— Advertisement —
Advertisement
তদন্ত শুরুঃ দুর্গাপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগের (পর্ব ২)

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বেনাচিতির সুপরিচিত এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী তার ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে নাকি দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অধীনস্থ একটি আস্ত পুকুর ভরাট করে ও তৎসংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে পাঁচিল তুলে দিয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিশিষ্ট আর টি আই অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত মল্লিক তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, মৌজা ফরিদপুর, জে.এল. নং ৭৪-এর অন্তর্গত ডিএসপি (DSP)-র নামে নথিভুক্ত পুকুর (আর.এস. দাগ নং ৭৮২, যা পরবর্তীতে এল.আর. দাগ নং ২৯১ ও ১৩১২-তে রূপান্তরিত) বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার কমিশনার ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাননীয় জেলাশাসককে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন।

সুব্রত মল্লিকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের ,ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলাশাসক দুর্গাপুরের বি.এল.আর.ও আধিকারী কে উক্ত পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগের যথাযত তদন্ত করে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ জারি করেছেন।

সুত্র মারফত জানা গেছে, এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নাকি নড়েচড়ে বসে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে এই বিষয়টি নিয়ে দুর্গাপুর পৌর নিগমের কমিশনার তার দপ্তরের আধিকারিকদের পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখতে আদেশ জারি করেছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসকের দপ্তর থেকে আদেশ জারি হওয়ার সাথে সাথেই অ্যাডিশনাল দুর্গাপুর-ফরিদপুর বি.এল.আর.ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওঠা পুকুর ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি ফিল্ড এনকোয়ারি অনুষ্ঠিত করেন।

দুর্গাপুর-ফরিদপুর বি.এল.আর.ও, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের ,ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলাশাসককে মৌজা ফরিদপুর, জেএল নং ৭৪ , আরএস প্লট নং ৭৮২-এর সংলগ্ন জলাশয়ে অবৈধভাবে ভরাট সংক্রান্ত ফিল্ড এনকোয়ারি / অবস্থা প্রতিবেদন/স্ট্যাটাস রিপোর্ট , মেমো নং 62, তে জানিয়েছেন, "উপরিউল্লিখিত বিষয় ও সূত্রের প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট আরআই (RI)-এর মাধ্যমে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক নথিপত্রও যাচাই করা হয়েছে। এলআর (LR) ও আরএস (RS) মানচিত্র থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আরএস প্লট ৭৮২-এর অনুরূপ এলআর প্লটটি হলো ১৩১২। আরএস রেকর্ডে সংশ্লিষ্ট আরএস প্লটটিতে একটি পুকুরের উল্লেখ ছিল, কিন্তু এলআর মানচিত্রে উক্ত প্লটটিতে পুকুর বা কোনো জলাশয়ের কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তদন্ত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট প্লটটিতে কোনো জলাশয় নেই। তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, প্লটটির একটি অংশ ঝোপঝাড়ে পূর্ণ এবং অন্য অংশে একটি রাস্তা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, বহু বছর আগে ওই প্লটে একটি জলাশয় (ডোবা) ছিল। এলআর (LR) স্ক্যান ও সিএলআর (CLR) থেকে দেখা যায় যে, প্লটটি বর্তমানে ডিএসপি (DSP)-র নামে রেকর্ডভুক্ত এবং এর শ্রেণিবিভাগ হলো 'পতিত'। উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সংশ্লিষ্ট প্লটটিতে কোনো জলাশয়ের অস্তিত্ব নেই। বর্তমানে সেখানে কোনো জলাশয় নেই এবং প্লটটি একটি সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান-ডিএসপি (DSP)-র নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।" 

দুর্গাপুর-ফরিদপুর বি.এল.আর.ও, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের ,ভূমি ও ভূমি রাজস্ব বিভাগের অতিরিক্ত জেলাশাসককে উপরিউল্লিখিত বিষয়ে তার সহোদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আরজি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্যঃ দুর্গাপুরের বিধাননগর নিবাসী বিশিষ্ট আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট সুব্রত মল্লিক এক লিখিত অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাননীয় জেলাশাসক ও দুর্গাপুর পৌর নিগমের কমিশনার কে জানিয়েছিলেনঃ- 
(১) ফরিদপুর মৌজার জে.এল. নং ৭৪-এর অন্তর্গত আর.এস. দাগ নং ৭৮১ (৪০.৭৫ শতাংশ) কৃষ্ণ লাল দে-র (পিতা: মৃত আনন্দ চরণ দে) নামে এবং আর.এস. দাগ নং ৭৮২ (২৯.৪৯ শতাংশ) একটি পুকুর হিসেবে ডিএসপি (দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট)-এর নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। জমির মোট পরিমাণ = ৭০.২৪ শতাংশ।

(২) ভূমি স্বত্ব রূপান্তরের সময়, বিএলআরও (BLRO) কর্মকর্তারা নাকি ব্যক্তিগত সুবিধাভোগীদের সাথে যোগসাজশে অবৈধভাবে প্লট নং ৭৮২ (পুকুর)-কে ৭৮১-এর সাথে একীভূত করে, এর রেকর্ড মুছে ফেলে এবং দুটি নতুন ভূমি স্বত্ব প্লট (২৯১ ও ১৩১২) তৈরি করে।

(৩) পরবর্তীকালে, কৃষ্ণ লাল দে একটি নিবন্ধিত দলিলের (দলিল নং ১-২৩০৬০৫৮৭৯/২০২৫) মাধ্যমে জমিটি নাকি নবেন্দু ঘোষের (পিতা নরেন্দ্রনাথ ঘোষ) নামে হস্তান্তর করেন। (খণ্ড ২৩০৬/২০২৫, পৃষ্ঠা ১১২০১১-১১২০২৭, তারিখ ১১.০৬.২০২৫, দুর্গাপুর রেজিস্ট্রি অফিস)।

(৪) কোনো যাতায়াতের পথ না থাকায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চলাচলের পথ তৈরির উদ্দেশ্যে রেকর্ডভুক্ত পুকুরটি (আর.এস. ৭৮২) নাকি বেআইনিভাবে ভরাট করছে, এর ফলে একটি সর্বজনীন জলাশয় ধ্বংস হয়েছে,  এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

(৫) পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইন, ১৯৯৩ (ধারা ২০২,২০৪ ও ২২৩)-এর অধীনে, জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাট করা প্রতিরোধ করা এবং সেগুলোর সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দুর্গাপুর পৌর কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক কর্তব্য। পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষ আইন,১৯৮৪-এর ১৭এ (17A) ধারা অনুযায়ী, ৫ কাঠার বেশি আয়তনের কোনো নথিভুক্ত পুকুর অনুমতি ছাড়া ভরাট করা যায় না।

(৬) পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ জলাশয় (ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা) আইন,২০০৫-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, জেলাশাসক ও পৌর কর্তৃপক্ষকে বেআইনিভাবে ভরাট করা পুকুরগুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে। মাননীয় কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, পুকুর বেআইনিভাবে ভরাট করা একটি 'কগনিজ়েবল অফেন্স' (যে অপরাধে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে) এবং এটি বন্ধ করার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে পুলিশের সাথে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement