নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- অভিনেতা, সমাজকর্মী এবং মেথড অ্যাক্টিং-এর প্রশিক্ষক ববি চক্রবর্তী গত ১৩ আগস্ট ডায়মন্ড হারবারের Govt. ITI Falta-য় তাঁর বিশ্বব্যাপী, সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সচেতনতা কর্মসূচি ‘I AM THE KING OF MY MIND’-এর ৪৮৯তম অধিবেশন পরিচালনা করেন। প্রশিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে এই কর্মসূচি ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে।
সাধারণত কোনও অধিবেশনের পর ববি যদি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রশাসনকে তাঁর ভাবনার সঙ্গে সহমত ও সমমনস্ক মনে করেন, তখন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কারণ, তাঁর মতে, ধূমপান, মদ্যপান, স্মার্টফোনের আসক্তি এবং নানা ক্ষতিকর সামাজিক প্রবণতা—যেমন অশালীন ভাষার ব্যবহার, জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনলাইনে অশ্লীলতা, অনলাইন গেমের মাধ্যমে জুয়া, বুলিং, র্যাগিং ইত্যাদির বিরুদ্ধে এই সচেতনতা যেন শুধুমাত্র এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। এই বার্তা একটি যুবা মনে চিরস্থায়ীভাবে গেঁথে থাকা উচিত।
সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ প্রজেক্ট হেড অঞ্জন বিশ্বাস, অধ্যক্ষ দীপালোক দাস এবং ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর পারমিতা হালদার এই প্রতিযোগিতাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ছিল তিনটি বিভাগ—(ক) লেখা, (খ) আর্ট ও ক্র্যাফট এবং (গ) অডিও-ভিজ্যুয়াল। বিষয় ছিল—শিক্ষার্থীরা যেন আসক্তি বিরোধী অভিযান থেকে তারা কী বুঝেছে এবং কী শিক্ষা পেয়েছে, তা তুলে ধরে; পাশাপাশি ভবিষ্যতে কীভাবে তারা এই সচেতনতার বার্তা এগিয়ে নিয়ে যাবে, সেটিও প্রতিফলিত করে।
সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেডের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তিনটি বিভাগেই অসংখ্য চমৎকার ও প্রশংসনীয় কাজ জমা পড়ে। প্রতিযোগিতায় এত চমৎকার অংশগ্রহণ থাকায়, বিজয়ীদের বেছে নিতে ববি চক্রবর্তীকে বেশ কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়।
প্রথম স্থান অধিকার করে সৈনিক অনন্যা মণ্ডল (CCE ও Sewing)। একটি শক্তিশালী পোস্টারের মাধ্যমে সে,ববির সচেতনতা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেছে—'আসক্তির অন্ধকারের শৃঙ্খল থেকে দূরে থাকো এবং আলোর দিকে ছুটে চলো… সেই বাবা-মায়ের দিকে, যাঁরা তোমার জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার'।
দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সৈনিক রূপর্ণা মল্লিক (Garments)। তাঁর পোস্টারে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নিজের মনের রাজা হওয়াই আসক্তি থেকে দূরে থাকার একমাত্র পথ।
তৃতীয় স্থান অধিকার করে সৈনিক শ্রাবণী কয়াল (CCE ও Surveyor)। একটি হৃদয়স্পর্শী লেখার মাধ্যমে সে ববির অ্যান্টি-অ্যাডিকশন ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ও বার্তাকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে তুলে ধরেছে। মজার বিষয় হল, ১৩ আগস্ট তাঁর কলেজে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পেইনেও শ্রাবণী অন্যতম বিজয়ী ছিলেন।
বিজয়ীরা খুব শীঘ্রই ববি চক্রবর্তীর কাছ থেকে বিশেষ পুরস্কার এবং কমিউনিটি সার্ভিস সার্টিফিকেট পাবেন।