নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- প্রয়াত হলেন কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। পরিবার সূত্রে জানা যায় গত কয়েক বছর ধরে লিভারজনিত সমস্যায় ভুগছিল তিনি। বছরখানেক আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চেন্নাই-সহ একাধিক রাজ্যে চিকিৎসা করানো হয়। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। এরই মধ্যে আচমকাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
কাঁকসার বামুনাড়া এলাকায় বাড়ি তাঁর। শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে অভিনয়, সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। সেই অনুষ্ঠান দ্রুত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। খবরের কাগজের পাতায় মানুষের কথা তুলে ধরতেন। পরবর্তীকালে হয়ে উঠেছিলেন মানুষের সমস্যার সমাধানের অন্যতম মুখ। এক সময় কাঁকসা ব্লকের সভাপতির পদ সামলেছেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন।
ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি শোকবার্তায় বলেন, “ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে দল এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে হারাল। মানুষের জন্য তাঁর কাজ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
দলীয় কর্মী থেকে এলাকার মানুষ সকলেরই দাবি ভবানী ভট্টাচার্য ছিলেন সদা-হাস্যময়, কর্মব্যস্ত একজন মানুষ। মানুষের প্রয়োজনে সব সময় ছুটে যেতেন পাশে থাকতেন। তাই দুর্গাপুর ও কাঁকসার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত, অত্যন্ত আপন এক নাম। তাঁর মৃত্যুতে কাঁকসা অভিভাবকসুলভ এক নেতাকে হারাল বলেই মনে করছেন এলাকার দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ।


















